পানির অভাবে মরে যাচ্ছে বোরো খেত

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর এলাকায় ফসলের জমিতে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের পানি না পেয়ে ধীরে ধীরে মরে লাল হয়ে যাচ্ছে বোরো ধান। অন্যান্য এলাকায় ধান কাটা শুরু হলেও আলাপুরের কৃষকের মাঠে এখনো ধানের দেখা মেলেনি।

জানা যায়, উপজেলার আলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত্ বিএডিসি সেচ প্রকল্পের সেচের মাধ্যমে প্রাপ্ত পানি দিয়ে কৃষকরা বোরো ধান চাষ করে আসছেন। চলতি বোরো মৌসুমেও শতাধিক কৃষক জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। এবার সময়মতো পানি সেচ না দেওয়ায় বোরো ধান চাষ করতে বিলম্বের শিকার হয়েছেন কৃষকরা। তাই এখন বোরো মৌসুমের ধান কাটার সময় হলেও আলাপুরে এখন পর্যন্ত ধানের শিষও বের হয়নি। এ ব্যাপারে গত বুধবার আলাপুর গ্রামবাসীর পক্ষে মো. নুরুল আলম জামাল স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দায়ের করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে কৃষকরা উল্লেখ করেন, বোরো ধান চাষাবাদের জন্য ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে জমিতে পানি সেচ দেওয়ার কথা থাকলেও সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ দেওয়া হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। এতেই বোরো ধান চাষাবাদে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানেও জমিতে পানি না থাকায় ধানের জমি ফেটে গিয়ে প্রায় ৫০ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আলাপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির আলী, রেনু মিয়া, তাহির মিয়া, সবুজ মিয়া জানান, তারা জনপ্রতি গড়ে ৩০০ শতক জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ গুনতে হয়েছে তাদের। এখন সময়মতো পানি না পাওয়ায় ধানের আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএডিসি কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএডিসি) তোফায়েল আহমেদ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, পানির অভাবে আলাপুর গ্রামের কৃষকদের মাঠে বোরো ধানের গাছে মড়ক ধরেছে। এখনই পানির ব্যবস্থা না হলে সব ধান মরে যাবে।