চাটমোহরে আবর্জনায় ভরা বড়াল নদ

হেলালুর রহমান জুয়েল, চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

চাটমোহরে বড়াল নদে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। দখল আর দূষণ এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বড়াল পাড়ের মানুষসহ এর আশপাশের হাট-বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ময়লার দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ। একই সঙ্গে নদের বিভিন্ন স্থানে আবাদ হচ্ছে ধান, পাট, শাক-সবজিসহ নানা ফসলের। ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে গেছে।

সরেজমিনে বড়াল নদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় বড়াল নদ দখল হচ্ছে। হাট-বাজার, বাসা-বাড়ি, হোটেল-রেস্তোরা ও পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে বড়ালে। চাটমোহর পুরাতন বাজারের মুরগী ব্যবসায়ীরা তাদের মুরগীর বর্জ্য দেদারছে বড়ালে ফেলছে। এ এলাকার সব হোটেল-রেস্তোরা আর হাসপাতালের বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে বড়ালের বুকে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও বাজারে আসা মানুষজন। একই অবস্থা ভাঙ্গুড়ার দহপাড়া থেকে বড়াইগ্রামের জোনাইল পর্যন্ত। চাটমোহর পুরাতন বাজারের মাংস বিক্রেতা জমির উদ্দিন বলেন, ‘যেভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়, তাতেই এই নদী ভরে যাবে। আর ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে কেউ টিকতে পারছে না। পৌরসভা ও কোন সরকারি অফিসই এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয় না।’

চাটমোহরের বোঁথর গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান মাস্টার বলেন, ‘এক সময় বড়ালের গভীরতা ছিল। বড় বড় নৌকা চলতো। সেদিন এখন অতীত। বড়াল তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। নদীতে আর পানি আসে না।’ বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০০৮ সালে আমরা বড়াল রক্ষায় আন্দোলন শুরু করি। দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে বড়ালের বুকে দেওয়া ক্রসবাঁধসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। নির্মাণ হয়েছে একাধিক ব্রিজ।’ তিনি আরো বলেন, ‘বড়ালকে ড্রেজিংয়ের আওতায় আনতে হবে। একইসাথে উচ্ছেদ করতে হবে অবৈধ দখলদারদের। বড়ালে দখল-দূষণ বেড়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম বলেন, ‘বড়ালকে রক্ষা করতে হবে। নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। দেশ বাঁচবে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক বড়ালের দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’