রাজধানীর গুলশানে তরুণী মৃত্যুর ঘটনার প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার শিকার তরুণীর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অনলাইন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির সদস্য বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির সদস্য ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম এবং নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে একজন নারীর মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারের জন্য রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাতে হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ নারীর প্রতি সহিংসতার সুষ্ঠু বিচার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগ যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করতে সক্ষম।
অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, করোনা মহামারির সময়েও নারী ও কন্যার প্রতি যে সহিংসতা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর প্রতি নির্যাতনের দায় কেবল নারীর নয় বরং আজ পুরো সমাজের ওপর এসে পড়েছে। এসময় তিনি নারীর প্রতি সহিংসতারোধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেন, গুলশানের ঘটনায় কে দোষী আমরা জানি না। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তত্পর হতে হবে।