ফুলবাড়ীতে চাষের আওতায় ৩ হাজার বিঘা জমি

অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

গত বছর জলবদ্ধতায় ডুবে ছিল ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউনিয়নের ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমি। খাল খনন হওয়ায় সেই সব ডুবে থাকা জমিতে এবার বোরো ধান চাষ হয়েছে। সোনালি ধান প্রাপ্তির প্রত্যাশায় চোখেমুখে খুশির ঝিলিক দিচ্ছে হাজারো কৃষকের ঘরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তরের লক্ষ্মীপুর গ্রাম থেকে দক্ষিণে দুর্গাপুর গ্রাম পর্যন্ত ৩ হাজার বিঘা ফসলের খেত। এই খেতগুলোর পশ্চিমে ছোট যমুনা নদী। বারাইপাড়া গ্রাম থেকে ছোট যমুনা নদীতে পানি নিষ্কাশনের খাল রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাঁধায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ডুবে থাকে ৩ হাজার বিঘা জমি। পাঁচ বছর ধরে সব ধরনের চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন হাজারো কৃষক। পরে গত বছরের ২৪ অক্টোবর তত্কালীন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম নিজে উপস্থিত থেকে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ৩০০ মিটার ক্যানেল খনন করেন। এতে নিরসন হয় জলাবদ্ধতার। এবছর সেই ৩ হাজার বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন কৃষকরা।

বারইপাড়ার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষিকাজই তার একমাত্র পেশা। এ বছর তিনি সাত বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২৫ মণ করে ধান হয়েছে। অথচ গত চার বছরে তিনি একটি ফসলও পাননি। মাহদিপুরের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন এসব জমিতে কোনো ফসল আবাদ না হওয়ায় এখানকার কৃষকরা দিনে দিনে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছিল। এখন সেই ঋণদেনা থেকে মুক্তি পাবেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাচ্ছিল না। শেষতক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপির দিকনির্দেশনায় তত্কালীন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম গত বছরের ২৪ অক্টোবর পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট যমুনা নদী পর্যন্ত ৩০০ মিটার ক্যানেল খনন করে জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। ফলে দীর্ঘদিন থেকে জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকা ফসলি জমিতে এ বছর বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় হাজারো কৃষকের মুখে খুশির হাসি ফুটেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সরকারের ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় সরকার ঐসব জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তত্কালীন ডিসি মহোদয়। ৩ হাজার বিঘা জমিতে ব্যাপক ধান উত্পাদন সম্ভব হয়েছে। খালটি পাকাকরণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।