সুন্দরীতমা, সুঅভিনেত্রী

হালে মুক্তি পেয়েছে হলিউডি সিনেমা ‘সেরেনিটি’। থ্রিলার ধাঁচের সিনেমাটিতে স্বামীর নিগ্রহের শিকার এক গৃহবধূ কারেন জারিয়াকাসের চরিত্রে রূপদান করেছেন হলিউডের সুন্দরী মেধাবী অভিনেত্রী অ্যানা হ্যাথাওয়ে। ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী মুভিটিতে চমত্কার অভিনয় করেছেন। এ মুভিতে অভিনয়ের জন্য অ্যানা হ্যাথাওয়ে তার মাথার চুলের রং পরিবর্তন করেছিলেন। যা হলিউডে সবার আলাদা মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। একজন সুঅভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন, বহু পুরস্কার তার করায়ত্ত হয়েছে। কিন্তু তারপরও তার সৌন্দর্য নিয়ে সবার মুখে আলোচনাটাই বেশি হয়। একজন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী হিসেবে অ্যানা হ্যাথাওয়ে এরমধ্যে সারা বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকদের হূদয়ে ঠাঁই করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তার অভিনীত বহু সিনেমা বক্স অফিসে যেমন আলোড়ন তুলেছে, তেমনিভাবে সমালোচকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করেছে। অ্যানার জন্ম শিল্পী পরিবারে। তার মা ছিলেন মঞ্চ অভিনেত্রী। শেক্সপিয়ারের নাটক নিয়ে মেতে থাকতেন। মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মঞ্চ অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল শুরুতে। মজার ব্যাপার হলো, মঞ্চ অভিনয়ে সম্পৃক্ত হওয়ার পর খ্যাতি অর্জন করতে তেমন বেগ পেতে হয়নি অ্যানা হ্যাথাওয়েকে। তার অনবদ্য অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই জুডি গারল্যান্ড, অড্রে হেপবার্নের মতো বিখ্যাত অভিনেত্রীদের সঙ্গে তার তুলনা করতে শুরু করেছিলেন। মঞ্চ অভিনয়ের সূত্রে ছোট পর্দায় কাজ করার সুযোগ এসে যায়। ছোট পর্দায় তার অভিষেক টিভি সিরিজ ‘গ্রেট রিয়াল’-এর মাধ্যমে। সেখানে প্রত্যাশিত সাড়া জাগাতে না পারলেও রুপালি পর্দায় পা রাখতেই বাজিমাত করেছিলেন। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়ারিজ’ মুভিতে অ্যানার দুর্দান্ত অভিনয় বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে দেয়। মিডিয়াতে তাকে হলিউডের নতুন রাজকুমারী হিসেবে অভিহিত করা হয়। ওই মুভিতে তার অসাধারণ সাফল্য ক্রমেই এগিয়ে নেয় আরও সামনের দিকে। পরবর্তী প্রিন্সেস ডায়ারিজ টু’, ‘এলা এনচ্যান্টেড’, ‘দ্য আদার সাইড অব হ্যাভেন’ প্রভৃতি সিনেমার বিরাট সাফল্য সত্যিকারের রাজকুমারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল হলিউডের বাইরেও বিভিন্ন মেজাজের মুভিতেও তাকে দেখা গেছে। ‘দ্য ব্রোকব্যাক মাউন্টেইন’ ও ‘হ্যাডক’ মুভিগুলোতে অফ ট্র্যাক রোলে নিজের যোগ্যতার উজ্জ্বল প্রমাণ দিয়েছেন এবং একজন সত্যিকার ভালো অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘বিকামিং জেইন’ মুভিতে বিশ্ববিখ্যাত লেখিকা জেইন আয়ার চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে চমক সৃষ্টি করেন অ্যানা হ্যাথাওয়ে। যা ছিল তার জন্য একটি দুঃসাহসী প্রচেষ্টা। আগামীতে তাকে ‘দ্য লাস্ট থিং হি ওয়ান্টেড’, ‘ড্রাই রান’, ‘দ্য হাস্টল’ মুভিগুলোতে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে। হলিউডের সুন্দরীতমা সুঅভিনেত্রী হিসেবে অ্যানা হ্যাথাওয়ের কদর বাড়ছে তার আপন যোগ্যতাতেই। তার জয়জয়কার অব্যাহত রয়েছে।