বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে সীমান্ত ঘেঁষা হাতীবান্ধা উপজেলার একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ ‘দইখাওয়া আদর্শ কলেজ’। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশমুখে তৈরি করা হয়েছে ব্যতিক্রমী মনোমুগ্ধকর, চিত্তাকর্ষক, সৃজনী এক অনন্য তোরণ। দেশ ও পৃথিবী বিখ্যাত পুস্তকের সমাহারে থরেথরে সাজানো হয়েছে এই নতোরণের উভয় সিঁড়ি।
উপরের ছাউনির মধ্যখানে দুই হাতে তুলে ধরা হয়েছে গ্লোব আকারে পৃথিবী। গ্লোবটিতে রয়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাসহ বিভিন্ন দেশের রঙিন পতাকা। সিঁড়ির উভয় শীর্ষে ছাউনির নিচে রয়েছে দেশের মানচিত্র। পুস্তকের উপর দণ্ডায়মান তোরণের সিঁড়িতে পঞ্চাশটি পুস্তকের মধ্যে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক রচিত ‘মা’ উপন্যাস ও বরেণ্য সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘শঙ্খনীল কারাগার’। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরীর প্রতিবাদী নাটক ‘কবর’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল জয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’, পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের কাব্যোপন্যাস ‘নকশী কাঁথার মাঠ’, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য ‘নুরলদীনের সারাজীবন’, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘অবরোধ বাসিনী’, জেলার কীর্তিমান লেখক কবি শেখ ফজলল করিমের ‘রচনাসমগ্র’ ইত্যাদি। তাছাড়া ম্যাক্সিম গোর্কির জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মা’, উইলিয়াম সেক্সপিয়রের ট্রাজেডি নাটক ‘ম্যাকবেথ’, জর্জ বার্নাড শ এর বিখ্যাত নাটক ‘ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান’, স্টিফেন হকিং এর ‘এ ব্রিফ হিস্টোরি অব টাইম’ প্রমুখ লেখকগণের পুস্তকের প্রচ্ছদে নির্মাণ করা হয়েছে এই অনিন্দ্য শিল্পকর্ম।