ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিকাশে বিদ্যমান মিউচ্যুয়াল ফান্ড আইন ও বিধিমালা সংশোধন করা জরুরি। এ আইনের বিভিন্ন ধারার মধ্যে বেশ অস্পষ্টতা আছে, কোথাও কোথাও আছে স্ববিরোধিতা। সংশোধনের মাধ্যমে এটিকে সময়োপযোগী করা না হলে এই ইন্ডাস্ট্রির বিকাশ ব্যাহত হবে। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার রিয়াজ ইসলাম গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। রাজধানীর বাড্ডায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচেম) সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের বিকাশ ও স্থিতিশীলতায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বাস্তবতায় বিএসইসির বর্তমান কমিশনও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিকাশকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট আইনটি সময়োপযোগী করা না হলে তাদের আন্তরিক চেষ্টার পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিকাশে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি তথা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ভালো পারফরম করা সত্ত্বেও বাজারে অনেক ফান্ডের ইউনিট তার সম্পদ মূল্যের (এনএভি) ৩০/৪০ শতাংশ ডিসকাউন্টে কেনাবেচা হয়। এটি খুবই অস্বাভাবিক। উন্নত বাজারগুলোতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজার মূল্য তার এনএভির চেয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ কম-বেশি হয়ে থাকে।
রিয়াজ ইসলাম মিউচ্যুয়াল ফান্ড আইন সংশোধন করে বাই-ব্যাক তথা স্পন্সর বা অ্যাসেট ম্যানেজার কর্তৃক বাজার থেকে ইউনিট কিনে নেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করেন। এলআর গ্লোবালের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার বলেন, কিছু সমস্যার কারণে গত পাঁচ বছর এলআর গ্লোবালের কার্যক্রমের গতি কম ছিল। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যার অনেকগুলোর সমাধান হয়ে গেছে। এই কমিশন খুবই আন্তরিক। এলআর গ্লোবাল এই কমিশনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করছে। নতুন কমিশন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো, কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, নানা আইন সময়োপযোগী করা, বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ, নতুন নতুন প্রোডাক্ট চালু ইত্যাদি যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তার মাধ্যমে বাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।