হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস
সিলেট নগরীর উপকণ্ঠে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের নিকটবর্তী চেঙ্গেরখাল নদীর তীরবর্তী এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত সিলেট মেরিন একাডেমি নির্মাণে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। বহু দূরের খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের দৃশ্যপটে এ স্থাপনাটি এক নয়নাভিরাম দৃশ্যপটের জন্ম দিয়েছে। এদিকে সিলেট মেরিন একাডেমির শিক্ষা কার্যক্রম আগামী জুলাই থেকে সিলেটে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শুরুর আশা করা হচ্ছে। সিলেট মেরিন একাডেমির দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডেন্ট, ক্যাপ্টেন কাজী এ বি এম শামীম বলেন, মেরিন একাডেমি সিলেট ক্যাম্পাস উদ্বোধন হয়েছে। এ বছরের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের নতুন এ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট মেরিন একাডেমির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযানেরও উদ্বোধন করেন। এর অবকাঠামে নির্মাণে ১০৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ঐ দিন সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সিলেট মেরিন একাডেমিসহ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সূত্র জানায়, অবকাঠামো ও জলযানের মধ্যে রয়েছে বিআইডব্লিউটি এর ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজার, ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান, প্রশিক্ষণ জাহাজ টিএস ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই), বিশেষ পরিদর্শন জাহাজ পরিদর্শ, নবনির্মিত নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেইজ; বিআইডব্লিউটিসির দুটি উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি তাজউদ্দীন আহমদ ও এমভি আইভি রহমান, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের পায়রা আবাসন পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট মেরিন একাডেমি।
২০১২ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের বরিশাল, সিলেট, রংপর ও পাবনায় চারটি মেরিন একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। পরে ২০১২ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটির জন্য ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। আর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেট মেরিন একাডেমির কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্ব্বাবধানে সিলেট মেরিন একাডেমির অবকাঠামো নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয় ২০১৭ সালে।
প্রকল্পের আওতায় ছোট-বড় ২০টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সুরম্য একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, তিনটি আবাসিক ভবন, জিমনেসিয়াম, মসজিদ, প্যারেড গ্রাউন্ড ও সুইমিংপুল। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এসব অবকাঠামো এবং জলযান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নৌ-সেক্টরের উন্নয়নে নতুন মাত্রা সংযোজন করবে। বাংলাদেশে তৈরি ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ শতাধিক নৌযান একসঙ্গে উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযান নদীর নাব্য রক্ষা, নৌপথ উন্নয়ন, উপকূলীয় এলাকার যাত্রী পরিবহন ও দক্ষ নৌকর্মী গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ২০টি ড্রেজার এবং ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান প্রস্তুত করা হয়। নৌপথ খনন ও নাব্য বজায় রাখার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৮টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ২০টি ড্রেজার বিআইডব্লিউটিএর বহরে যুক্ত হয়ে মোট ৪৫টি ড্রেজারের শক্তিশালী ইউনিট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বর্তমান মেয়াদে ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।