মহাকাশে প্রদক্ষিণরত একটি চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ আজ রবিবার পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষটি তুর্কমেনিস্তানের কোনো অংশে পড়তে পারে। এই ধ্বংসাবশেষের ওজন ২২ টন। এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে যাওয়া সবচেয়ে বেশি ওজনের ধ্বংসাবশেষ। এটি প্রায় ১০০ ফুট লম্বা এবং ১৬ ফুট চওড়া।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল চীনের ওয়েনচ্যাং স্পেস কেন্দ্র থেকে লং মার্চ ফাইভবি রকেটটি উেক্ষপণ করা হয়েছিল। মহাকাশে এই রকেটের ধ্বংসাবশেষ এখন পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে এবং এটি বায়ুমণ্ডলের নিম্ন স্তরে ঢুকেছে। যার মানে হলো, এটি পৃথিবীর চারিদিকে বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে নীচের দিকে নেমে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, তারা ধ্বংসাবশেষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সেটিকে গোলা ছুড়ে নীচে নামিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-ফোকাসড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার জানিয়েছে, মহাকাশে চীনা রকেটের নিয়ন্ত্রণহীন ধ্বংসাবশেষটি রবিবার প্রথম প্রহরের পর যেকোনো সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। চীনের দাবি, তাদের রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর জন্য একদমই বিপজ্জনক হয়ে উঠবে না। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরপরই রকেটের ধ্বংসাবশেষ পুড়ে যাবে। তাই সেটির কারণে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
তবে হার্ভার্ড ভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী জনাথন ম্যাকডোয়েল এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর রকেটের ধ্বংসাবশেষের পুরোটা পুড়ে না গিয়ে সেটার কিছু অংশ ভূমিতে আঘাত করতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাইক হাওয়ার্ড বলেছেন, ধ্বংসাবশেষটি গতিপথ নির্ণয়ের চেষ্টা করছে মার্কিন স্পেস কমান্ড। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ না করা পর্যন্ত এটি কোথায় পড়বে সেটি বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বড় কথা হলো যে ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীতে পড়বে তার মাধ্যমে মানুষের নিরাপত্তার হুমকি খুবই কম।