খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল

রাজধানীর এভার-কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিত্সাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তার শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমেছে তবে অক্সিজেন লেভেল ওঠানামা করছে। কিছুক্ষণ অক্সিজেন দিলে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারছেন। এসব তথ্য জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিত্সক ডা. মোহাম্মদ আল মামুন। গতকাল শনিবার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ডা. আরিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার অক্সিজেন স্যাচুরেশন আগের চেয়ে গতকাল কিছুটা ভালো ছিল। তার করোনা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে এবং তা সহজে যাচ্ছে না, তথাপি অনেকটা স্থিতিশীল আছেন বেগম জিয়া। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় বিদেশে যাওয়া পুরোটাই নির্ভর করছে সরকারের অনুমতি ও মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।এদিকে গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলের সুযোগ আছে কি না তা নিয়ে মতামত প্রদান শেষে আজ রবিবার এ সংক্রান্ত নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আমার আইনি মতামতসহ কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার পর মন্ত্রণালয় সে অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে কী মতামত দেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নথি যাবে। কী মতামত দিয়েছি সেটা তারাই হয়ত জানাবেন।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল বিকালে জানান, খালেদা জিয়ার চিকিত্সার জন্য বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তবে বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আইন মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে পাঠালে আমরা দেখব।

এদিকে গতকাল পর্যন্ত বেগম জিয়া নতুন পাসপোর্ট পাননি। আজ-কালের মধ্যেই তিনি নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন বলে আশা করছে তার পরিবার।

দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখানে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্য ছাড়াও সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং দুবাই দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট দেশে যাওয়ার ‘অনুমতি’ দেওয়া হয় কি-না সেদিকে তাকিয়ে আছে দল ও পরিবার।

তিন দিন আগে এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিদেশে যেতে বা বিদেশে চিকিত্সা নিতে পারবেন না—সরকারের দেওয়া সেই শর্ত শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। তবে দীর্ঘ ভ্রমণের শারীরিক সক্ষমতা থাকলেও যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর কোয়ারেন্টাইন থাকা বাধ্যতামূলক। সেটা নিয়ে চিন্তায় রয়েছে তার পরিবার।

খালেদা জিয়া গত ১০ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন। গত ২৭ এপ্রিল তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিত্সা নিচ্ছেন।