ফেনীর কিশোরী হত্যার ঘটনায় চাচাতো ভাইয়ের জবানবন্দি

ক্ষোভ থেকেই তানিশাকে খুন করে নিশান

তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ব্যবহার করায় চাচাতো বোন তানিশাকে খুন করা হয় বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিশান। শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় ঐ মাদ্রাসা ছাত্র। জবানবন্দিতে নিশান বলেন, ছোটবেলায় তার বাবা মারা যায় । চাচা-জেঠা আর ফুফুসহ আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় চলছিল নিশানদের সংসার। প্রতিনিয়ত তাদের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য ব্যবহার করায় ক্ষোভ জন্মাতে থাকে তার মধ্যে। এর শোধ নিতেই চাচাতো বোন তানিশাকে খুন করে সে।

শনিবার পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী পিপিএম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, খুব অল্পসময়ের মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেওয়া হবে। তিনি জানান, জবানবন্দিতে নিশান বলেছে বাবা জীবিত না থাকায় চাচার পরিবার তার বাবার সব সম্পদ গ্রাস করেছে। নিয়মিত তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হতো। একটু সুযোগ পেলেই কটূকথা ও গালমন্দও করা হতো। এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তার মনে ক্ষোভ ছিল। তানিশার ভাই ইতেকাফে থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মসজিদে ভাত পৌঁছে দিতে বলে। সে ভাত নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পথে অন্য একজনকে তা পৌঁছে দিতে বলে-আবার বাড়ি ফিরে আসে। তখন তানিশা ও তার দাদি ঘরে ছিল। এ সুযোগে ঘরে ঢুকে তানিশার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। টানা-হেঁচড়া করে তাকে ছাদের সিঁড়ি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে একপর্যায়ে তাদের রান্না ঘর থেকে ছোরা নিয়ে গলায় কোপানো হয়। পরে ছাদের এক পাশে একটি গাছ বেয়ে নিচে নেমে সে নিজের ঘরে চলে যায়। কিন্তু সিঁড়িতে তার স্যান্ডেল ফেলে যাওয়ার কথা ভুলে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এসআই ইমরান হোসেন জানান, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও রশি প্যাঁচানো ছিল। ছাদে মৃতদেহের পাশেই পড়ে ছিল নিশানের জুতা। বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যার ঘটনায় ব্যবহূত একটি ছোরাও উদ্ধার করা হয়। এর আগে নিহত তানিশার ভাই আশরাফুল ইসলাম ফেনী থানায় চাচাতো মো. আক্তার হোসেন নিশানসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন।