মার্কেটে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না—তা পরিদর্শনে গিয়ে রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, এলিফেন্ট রোড ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে আর্থিক জরিমানা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে এ অভিযান চলে বেলা ৩টা পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিউ মার্কেট এলাকায় অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন তাদের সংখ্যা খুবই কম। অন্যদিকে যারা মাস্ক পরে বের হয়েছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশের মাস্ক থুতনির নিচে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার প্রবণতাও কারো মধ্যে দেখা যায়নি। গুলিস্তানে ফুটপাতের দোকানগুলোর বেহাল চিত্র। ক্রেতাদের গাদাগাদি অবস্থা। অনেকের মুখে নেই মাস্ক। প্রত্যেক ঈদের কেনাকাটার চিত্র যেমন থাকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ রফিকুল হকের নেতৃত্বে নিউ মার্কেট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ১৪ ক্রেতা-বিক্রেতাকে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালে নিউ মার্কেটে দেখা যায় অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই থুতনির নিচে ঝুলিয়ে রাখা মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে দিচ্ছেন। নিউ মার্কেটে প্রবেশ গেটগুলো দিয়ে ক্রেতা প্রবেশের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। যখন যেমন খুশি মাস্ক ছাড়াই লোকজন প্রবেশ করছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শেষ হওয়ার পর আগের চিত্রই ফুটে উঠছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. সঞ্জীব দাসের নেতৃত্বে নূর ম্যানসন, গাউছিয়া মার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় আরো একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ১৭ ক্রেতা-বিক্রেতাকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করে।

অভিযান চালানো ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. সঞ্জীব দাস বলেন, সরকার যেদিন থেকে বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে সেদিন থেকেই আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা চাচ্ছি জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য উত্সাহিত করতে। আমরা বলতে চাই, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই চলবে—তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ অভিযান পরিচালনা করব। জনগণ যদি সচেতন না হয় তাহলে অভিযানের সুফল মিলবে না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, জরিমানা করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাচ্ছি মানুষ যেন সচেতন হয়। মানুষকে সচেতন করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না তাদের সক্ষমতা বিবেচনা করে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে। তবে কেনাকাটার সময় তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।