রাবেয়া বেবী
জীবনে মানুষের জন্য কিছু করাকে আনন্দের মনে করেন জান্নাত। তাই ছেলাবেলা থেকে কারো কোনো বিপদ হলে কিংবা কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার পাশে থাকতেন। আর যখন দেখতে পেলেন করোনার মতো মহামারি আশপাশের মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে, তখন চুপ থাকতে পারেননি তিনি। নেমে গেছেন তাদের সহযোগিতা করতে। পুরো নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। ইডেন মহিলা কলেজে মাস্টার্স পড়ছেন। ২০১৭ সালে একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেন। তখন মিরপুরের বস্তিতে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ান জান্নাত। তার কাজের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয় প্রতিষ্ঠানের ওপরের কর্তাব্যক্তিরা। তাই তাকে বেশি বেশি করে তাদের সঙ্গে যুক্ত করেন। বেশি কাজ দিতে থাকেন। সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের বই-খাতা এবং নবজাকতের দুধের ব্যবস্থা করতেন। এক সময় জান্নাত নিজের বন্ধু-আর আত্মীয়তের মাধ্যমে নিজেই মানুষের জন্য এই কাজগুলো করতে শুরু করেন। সেসময় ঢাকাতে কয়েকটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। জান্নাত সক্রিয় হয়ে সেসব জায়গায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ঘোরাঘুরি করে নানা জায়গা থেকে ফান্ড জোগাড় করে এগিয়ে নিয়ে যান তার কার্যক্রম।
দেশে করোনা শুরু হয়। এসময় তো আর বসে থাকা যায় না। নিজের মতো করে এবং একটি শিশু সংগঠনের হয়েও তিনি কাজ করতে শুরু করেন। এখানে তার কাজের প্রতি আন্তরিকতা তাকে একটি দলের নেতৃত্ব এনে দেয়। আবার তৃতীয় লিঙ্গদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ান জান্নাত। সবমিলিয়ে করোনার প্রথম ঢেউয়ে জান্নাত অবিরামভাবে মানুষের পাশে থেকেছেন। রাত-দিন ভুলে গিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে খাবার, সেনিটাইজার, সাবান, মাস্ক পৌঁছে দিয়েছেন। এসময় তার মায়ের করোনা পজিটিভ আসে। সবাই এর জন্য তাকেই দায়ী করেন। সবার ভর্ত্সনা জান্নাত নীরবে সয়ে যান। মনে করেন, তিনি তো ঠিক বাইরে কাজ করেছেন। মায়ের সুস্থতার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা ছিল তার। হাসপাতার বাড়ি করে কাটিয়েছেন তখন। আর প্রার্থনা করেছেন সৃষ্টিকর্তা যেন মাকে সুস্থ করে দেন। এখন মা সুস্থ।
চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। জান্নাত তো আর বসে থাকতে পারে না। আবার নিজের মতো করে নেমে পড়েন মানুষের সহযোগিতার কাজে। এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি করে যা পান, তা দিয়ে কখনো চার আবার কখনো ছয় পরিবারের এক সপ্তাহের খাবার নিয়ে কড়া নাড়েন দরজায়। নিজেই খাবার প্যাকেট করে রিকশা অথবা সিএনজি নিয়ে চষে বেড়ান ঢাকার এ-মাথা থেকে ও-মাথা। এতে তার ক্লান্তি নেই এতটুকু। আত্মপ্রত্যয়ী জান্নাত বলেন, এসব কাজ করতে আসলে অনেক টাকা লাগে না, নিজের ইচ্ছাটা থাকলেই হয়।