বাংলাদেশে ২০০৮ সাল হইতে এনআইডি তথা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় পরিচয়পত্র বিভাগ বাংলাদেশের নাগরিকদের এনআইডি কার্ড ও এই সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা প্রদান করিয়া আসিতেছে। নাগরিকদের জন্য ইহা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা যাহা অনেক দেশেই নাই। বিশেষ করিয়া ২২ ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র কাজে লাগিতেছে। যেমন—আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর পাওয়া, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও নবায়ন, ট্রেড লাইসেন্স করা, পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, চাকুরির আবেদন, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়বিক্রয়, বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, টেলিফোন ও মোবাইল ফোন সংযোগ ইত্যাদি। অনেক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেই এখন এনআইডি নম্বর প্রদান বাধ্যতামূলক। ফলে এনআইডি সংক্রান্ত সেবার সহজীকরণ ও সুলভে প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করা জরুরি।
উপর্যুক্ত কারণে এনআইডি সেবা প্রাপ্তিতে কোনো প্রকার বিড়ম্বনা বা হয়রানি মোটেও প্রত্যাশিত নহে; কিন্তু গতকাল ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হইয়াছে, এনআইডি সেবা পাইতে নাগরিকদের দুর্ভোগের অন্ত নাই। অনিষ্পত্তি অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে অসংখ্য আবেদন; কিন্তু এনআইডি সংশোধন, এনআইডি ইনকমপ্লিট স্ট্যাটাস, নূতন ভোটার ও এনআইডি হারানো কার্যক্রমে দেখা দিয়াছে মন্থর গতি। করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে গত বত্সর ২৬ এপ্রিল হইতে অনলাইনে এনআইডি সেবার কার্যক্রম শুরু হয়; কিন্তু জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের পদে পরিবর্তন আসিবার পর সমন্বয়ের অভাবে এই কাজের গতি শ্লথ হইয়া গিয়াছে বলিয়া অভিযোগ করা হইতেছে। লকডাউনের কারণে নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় অনেক অফিস বন্ধ। ফলে জরুরি সেবা পাইতেছেন না অনেকেই। এই সময় অনলাইন সেবাই প্রধান ভরসা। তাই বর্তমানে অনলাইনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করিয়া এনআইডি কপি সংগ্রহ, সংশোধন, হারানো এনআইডির জন্য আবেদন ও নূতন ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হইয়াছে। এই অনলাইন সেবা পাইতে গ্রাহককে প্রবেশ করিতে হইবে https://services.nidw.gov.bd—এই ওয়েবসাইটে। ইহার পাশাপাশি এনআইডি নম্বর জানিবার জন্য এসএমএস করিতে হইবে ১০৫ নম্বরে। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করিবারও বিশেষ ব্যবস্থা রহিয়াছে; কিন্তু এই অনলাইন সেবা যদি নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ঝঞ্ঝাট না হয়, তাহা হইলে মানুষ কীভাবে উপকার গ্রহণ করিবেন?
গত মার্চ মাসে হালনাগাদ করিবার পর দেশে ভোটারসংখ্যা দাঁড়াইয়াছে ১১ কোটি ১৭ লক্ষ ২০ হাজার ৬৬৯ জন। তাহার মধ্যে এইবার অন্তর্ভুক্ত হইয়াছেন ১৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৬ জন। এই নূতন ভোটারদের বিড়ম্বনা সবচাইতে অধিক। তাহারা এনআইডি পাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনিতেছেন। যেহেতু করোনা পরিস্থিতিতে খুব জরুরি ও টিকাদান কার্যক্রমের প্রয়োজন ব্যতীত কাহাকে মাঠ পর্যায়ে সেবা দিতেছে না ইসি, এই জন্য সার্বিক সেবা প্রদানে অনলাইন প্রক্রিয়াকে আরো জোরদার করিতে হইবে। বৃদ্ধি করিতে হইবে এই সংক্রান্ত সেবার পরিধি। যিনি নূতনভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের দায়িত্ব লাভ করিয়াছেন, তাহার উচিত দ্রুত এই সংকট কাটাইয়া উঠা ও অনলাইনে এনআইডি সেবাকে গতিশীল করা। এই জন্য প্রয়োজনে দক্ষ জনবলও বৃদ্ধি করা যাইতে পারে। কেননা করোনা পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হইবে তাহা আমরা কেহ জানি না। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবা খাতের ন্যায় অনলাইনে এনআইডি সেবা প্রদানে নির্বাচন কমিশনকে অধিক সক্ষমতা অর্জন করিতে হইবে।