বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এই সংসদ ভুয়া। জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। বর্তমান সংসদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই। অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে সরকার গঠন করতে হবে। অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। সেখানে জনগণ যেন সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার দিতে পারে। জনগণের অধিকার, ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য, ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার প্রতিবাদে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ সব কথা বলেন তিনি। বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএনপির উদ্যোগে এক ঘণ্টার মানববন্ধন হয়। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে যান নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই আসতে শুরু করেন বিএনপি ও দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দেশে পচাঁত্তরের মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালে তারা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। ঠিক একই কায়দায় আজকে তারা জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একদলীয় দখলদারিত্বের সংসদ গঠন করেছে। একাদশ সংসদের অধিবেশনকে ‘অবৈধ’ দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটি সংসদের অধিবেশন বসছে। এ সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।
আরও পড়ুন: লাঠি ঘোরানো ও হুমকি দেয়া পুলিশের কাজ নয়: ডিএমপি কমিশনার
দেশে দখলদার সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর একটি ভোট ডাকাতির ভুয়া নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার হরণ করে দখলদারি সংসদ ও দখলদারি সরকার বসিয়েছে।
নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে পুনরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান তিনি। বলেন, ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচনই হয়নি। আমরা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সঙ্গে ফলও প্রত্যাখ্যান করেছি। তখনই আমরা বলেছিলাম একটি নিরপেক্ষ সরকার ও ইসির অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। আজকে আমরা আবার একই দাবির পুনরাবৃত্তি করছি।
ইত্তেফাক/এমআই