ফারুক আহমেদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ত্রিশালে জমে উঠেছে ‘গরিবের ঈদবাজার’। ত্রিশাল পৌর শহরের ব্রিজ থেকে থানা রোড মোড় পর্যন্ত দুই পাশের ফুটপাত, ছানাউল্লাহ সুপার মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাত, আলতাব সুপার মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাত ও মেয়র মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাতের অল্প আয়ের মানুষের ভিড় বেড়েছে। এসব মার্কেট থেকে তারা সাধ্যের মধ্যে পরিবারের সব সদস্যের জন্য কেনাকাটা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্রিশাল পৌর শহরের ব্রিজ থেকে থানা রোড মোড় পর্যন্ত দুই পাশের ফুটপাত, ছানাউল্লাহ সুপার মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাত, আলতাব সুপার মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাত এবং মেয়র মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা দোকানে অল্প আয়ের মানুষের সমাগম বেড়েছে। সাধ্যের মধ্যে পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কেনাকাটার পালা সারছেন অল্প আয়ের মানুষ। এখানে তুলনামূলক কম দামের গার্মেন্টসের পোশাক পাওয়া যায়। রবিবার ত্রিশাল ছানাউল্লাহ সুপার মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাতের বাজারে মেয়ের জন্য জামা-জুতা কিনতে এসেছিলেন ধানীখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা পেশায় রংমিস্ত্রি কালাম মিয়া। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। তিনি জানান, মেয়ে বায়না ধরেছে ভারতীয় সিরিয়ালে সে একটি জামা দেখেছে। কিন্তু মেয়ের দামি পোশাকের চাহিদা থাকলেও তাকে তার সাধ্যের মধ্যে থেকে পোশাক কিনে দিতে হবে। এখানকার বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে তিনি মেয়ের জন্য জামা কেনেন। তিনি আরো বলেন, বড় দোকান থেকে পোশাক কিনতে গেলে অনেক টাকা গুনতে হবে। যা তার সাধ্য নেই। তাই এখান থেকেই একটি পোশাক নিতে হলো। এ সময় আরেক ক্রেতা ছলিমপুর এলাকার মোতালেব মিয়া বলেন, আমি এক জন চাষি, পরের জমি বর্গা করে সংসার চলে। আর মাত্র কয়েক দিন পর ঈদ। আমার কেনাকাটা না হলেও ছেলে ও মেয়েকে খুশি রাখতে তাদের নতুন জামা দিতে হবে। বড় বড় মার্কেট থেকে পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই। তাই ফুটপাত থেকে কম দামে ভালো জামা-কাপড় কিনতে এসেছি। অল্প টাকায় এখানে বেশ ভালো কাপড় পাওয়া যায়। ত্রিশাল সোনালী ব্যাংকের সামনে একটি কাপড়ের দোকানের মালিক আয়নাল হোসেন জানান, রোজার শেষ দিকে এসে আমাদের ব্যবসা বেশ ভালোই হচ্ছে। ঈদে নতুন জামা-কাপড় কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। জামা-কাপড়ের দাম এখানে তেমন একটা বেশি না। ফলে ঈদ আসলেই এখানে স্বল্প আয়ের মানুষের কেনাকাটার ভিড় লেগে যায়।