দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানের সুরে শ্রোতার মুগ্ধতা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

অবরুদ্ধ সময়েও একেবারে থেমে নেই সংস্কৃতিচর্চা। সরাসরি আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নৃত্য-গীতসহ নানা আয়োজন। তেমনই এক লোকগানের আসর অনুষ্ঠিত হলো গতকাল রবিবার। সংগীতাসর ছিল বাউল, ভাটিয়ালি ও কীর্তনের সুরে রাঙানো। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সৃষ্টির ঐশ্বর্যে সাজানো ছিল এই সংগীতায়োজন। ঘরবন্দি জীবনে অনেকেই উপভোগ করেছেন এই গানের আসর। লোকগানের ধারায় সৃষ্ট নাগরিক পল্লিগীতি শীর্ষক  এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাধারণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয় লোকজ আঙ্গিকের রূপরেখায় নাগরিক গীতিকবিদের সৃষ্টিস্নাত এই সংগীতাসর। দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত ১০টি গানে সাজানো ছিল এই সংগীতায়োজন। গানগুলো পরিবেশন করেন শারমীন সাথী ইসলাম ময়না ও আশিক সরকার।

প্রথমে সংগীত পরিবেশন করেন শারমীন সাথী ইসলাম ময়না। বিশ্ব মা দিবসের রাতে তার গাওয়া প্রথম গানের শিরোনাম ছিল  ‘একবার গালভরা মা ডাকে’। পরের গান ছিল ‘বেলা বয়ে যায়/ ছোট্ট মোদের পানসী তরী/ সঙ্গে কে যাবি আয়...’। এরপর একে পরিবেশন করেন ‘চাহি অতৃপ্ত নয়নে’, ‘জীবনটা তো দেখা গেল’ এবং ‘ও কে গান গেয়ে গেয়ে চলে যায়’ শিরোনামের গান।

আশিক সরকার শুরুতেই গেয়ে শোনান—‘তুমি যে হে প্রাণের বধূ/ তোমা প্রেমে মাতোয়ারা/ তাই তো কাছে ছুটে আসি...’। এরপর শিল্পী একে একে পরিবেশন করেন ‘বসিয়া বিজন বনে’, ‘ছিল বসি সে কুসুম কাননে’, ‘বুড়ো বুড়ি দুজনা’ এবং ‘ওই মহাসিন্ধুর ওপার হতে’ শিরোনামের সংগীত।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ড. বিশ্বজিত্ রায়। আয়োজনটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা গানের ধারায় লোকগান ঐতিহ্যগতভাবেই প্রাচীন। গ্রামবাংলার গীতিকবিদের রচিত সেই ধারাটিই একসময় নাগরিক গীতিকবিদের আকৃষ্ট করে। তাদেরই একজন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।