কাজীরহাট-আরিচা নৌপথ

ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কৌশলে যাত্রী বহন!

রতন কুমার আচার্য্য, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা

বেড়া উপজেলার কাজীরহাট নৌঘাট দিয়ে আরিচার দিক থেকে শত শত যাত্রী উত্তরের জেলাগুলোতে আসছে। এসব যাত্রীর বেশির ভাগই আসছে ফেরিতে। আর কিছু যাত্রী আসছে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আসা যাত্রীদের কাজীরহাট ফেরিঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাজধরদিয়া নামের চরে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে কাজীরহাট নৌঘাটে এসে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে কাজীরহাট নৌঘাট এলাকায় সোমবার গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭টার কিছু আগে কাজীরহাট ফেরিঘাট থেকে একটি ফেরি কয়েকটি যানবাহন নিয়ে আরিচার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও তাতে সাধারণ যাত্রী ছিল একেবারেই কম। এরপর সকাল ১০টা পর্যন্ত আরিচার উদ্দেশে আর কোনো ফেরি কাজীরহাট থেকে ছেড়ে যায়নি। তবে সকাল পৌনে ১০টার দিকে আরিচা থেকে কেতকি নামের একটি ফেরি কাজীরহাট ফেরিঘাটে বিভিন্ন যানবাহন ও শতাধিক যাত্রী নিয়ে এসে ভেড়ে। ফেরিতে যানবাহনের মধ্যে যাত্রীরা ঠাঁসাঠাঁসি অবস্থায় দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণই ছিল না। অনেকের মুখে মাস্কও দেখা যায়নি।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আরিচা থেকে এসেছে। এমনিতে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভাড়া ৬০ টাকা করে হলেও প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে যাত্রীরা জানায়। যাত্রীদের সরাসরি আরিচা নৌঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় না তুলে কিছুটা দূরের চর থেকে তোলা হয় বলে জানা যায়।

পাবনার আতাইকুলার এক যাত্রী নাম না প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কষ্ট করে আসতে হচ্ছে। প্রয়োজন আছে দেখেই বাড়ি যাচ্ছি। অল্প নৌকা চলার কারণে প্রত্যেক নৌকায় গাদাগাদি করে যাত্রী উঠাচ্ছে।’ এসব যাত্রীকে নামানো হয় কৌশলে চর এলাকার ফাঁকা জায়গায়। পুলিশ দেখা মাত্রই নৌকাগুলোকে দিক পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় যেতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশি ভাড়া পাওয়ার লোভে পুলিশি নজর এড়িয়ে কিছু মাছধরা নৌকাও যাত্রী পারাপার করছে। তবে এগুলোর মধ্য থেকে নগরবাড়ী নৌপুলিশ যাত্রী বহনের দায়ে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আটক করে। পাবনার সুজানগর উপজেলার ত্রিমোহিনী গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য সকাল ৭টা থেকে দুই ঘণ্টা ধরে ঘাটে বসে আছেন। কিন্তু কোনো ফেরি বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা না পাওয়ায় ওপারে যেতে পারছেন না। কাজীরহাট নৌঘাটে দায়িত্ব পালন করছিলেন নগরবাড়ী নৌপুলিশ ফাঁড়ির বেশ কয়েক জন সদস্য। তাদের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রকিব মোহাম্মদ বলেন, ‘লঞ্চ ও স্পিডবোট তো এমনিতেই বন্ধ আছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাতে যাত্রী আনতে বা নিতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা কঠোরভাবে পাহারা দিচ্ছি। কিন্তু এর মধ্যেও সুযোগ বুঝে দু-একটি নৌকা যাত্রী নিয়ে আসছে। আমরা যাত্রী নিয়ে আসায় এ ধরনের দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা সোমবার আটক করেছি।’