আবু জাফর, চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা
চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদ শুকিয়ে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। নাব্য সংকট ও দুই তীরে জেগে ওঠা খাসজমি অবৈধভাবে দখলের কারণে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে নদটি। সরেজমিন কপোতাক্ষ নদের উত্পত্তিস্থল চৌগাছার তাহেরপুর থেকে ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর ব্রিজ পর্যন্ত দেখা গেছে, নদের মধ্যে দখল করে তৈরি করা হয়েছে বাড়ি ও মার্কেট। আবার অনেক স্থানে রয়েছে নির্মাণাধীন স্থাপনা। বেড়িবাঁধ দিয়ে মত্স্য চাষ করাসহ পুকুর কাটা হয়েছে। এসব কারণে বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টি হলেই দুকূল ছাপিয়ে এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
কাপোতাক্ষের পাড়ের বাসিন্দা হাজরাখানা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মত্স্যজীবী জগবন্ধু এবং সাধন হালদার বলেন, ‘বাপ-দাদারও পেশা ছিল এই নদীতে মাছ ধরে সংসার চালানো। আমরা তাদের কাছ থেকে শিখে মাছ ধরে সংসার চালাতাম। কিন্তু নদীতে এখন পানি না থাকায় আমাদের এখন পেশা বদলাতে হচ্ছে।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক জানান, জানামতে ড্রেজিং করার জন্য টেন্ডার হয়েছে। অবৈধ দখলদার যত শক্তিশালী হোক না কেন, আইন অনুযায়ী অচিরেই উচ্ছেদ করা হবে। চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, ‘একসময় কপোতাক্ষ নদ এই এলাকার মানুষের মিষ্টি পানি সরবরাহ করত। এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রাচীনকাল থেকে এই নদের অবদান অনস্বীকার্য। চৌগাছা-ঝিকরগাছা উপজেলার প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় কপোতাক্ষের দখল করা খাসজমি মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যশোর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে কপোতাক্ষ নদের উত্পত্তিস্থল চৌগাছার তাহেরপুর থেকে মনিরামপুর চাকলার ব্রিজ পর্যন্ত খননের জন্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রকল্পটি টেন্ডার হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পরেই খননকাজ শুরু হবে। এ সময় নদের দুই ধারের সীমানা নির্ধারণ করা হবে।’ যশোর জেলা প্রশাসক জানান, কপোতাক্ষ নদ অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করতে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন বলেন, ‘কপোতাক্ষ নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে খননের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। খননের পর উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে পাটা কিংবা কোমর বা বাঁধ দিয়ে মাছ ধরতে না পারে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’