মির্জাপুরে পরিত্যক্ত ভবনে চলছে ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম!

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

মির্জাপুর উপজেলায় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্রীড়া সংস্থার ভবনে চলছে কার্যক্রম। সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গতকাল সোমবার উপজেলা সদরের বাইমহাটি এলাকায় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবনে গিয়ে দেখা গেছে করুণ অবস্থা। ২০১৬ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলা সদরের বাইমহাটি মৌজায় ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ জমির ওপর ক্রীড়া সংস্থার স্টেডিয়াম ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৭৯ সালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ক্রীড়া সংস্থার স্টেডিয়াম ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার স্টেডিয়াম ভবনের পাশে রয়েছে বিশাল একটি মাঠ। এই ভবনে বসেই খেলাধুলা পরিচালিত হয়ে আসছে।

দেখা গেছে, ভবনের ওপরের ছাদে গাছপালা, আগাছা ও লতাপাতা জন্মে বেহাল অবস্থা। ছাদ দিয়ে এবং চারপাশের দেওয়াল চুইয়ে পানি পড়ায় ইট-সুরকি-বারু ও রড ধসে পড়ছে। ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা ২০১৬ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে লাল অক্ষরে লিখে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই উপজেলার ক্রীড়া সংস্থার সব কার্যক্রমসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের দায়িত্ব বা কাজ করে আসছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে আবু কাওসার চপল, রায়হান সরকার রবিন ও সাধারণ জনগণের দাবি, মির্জাপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবন ও খেলার মাঠের দ্রুত উন্নয়ন প্রয়োজন।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবনটি (স্টেডিয়াম) কয়েক যুগ ধরে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটি নতুনভাবে তৈরি করার জন্য স্থানীয় এমপি, ডিসি,  ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শক্রমে অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আবেদনসহ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ২০১৯ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল মির্জাপুরে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ভবন ও স্টেডিয়াম পরিদর্শনে এসে জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমন বলেন, ‘উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৬ সালে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুত সময়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবন নির্মাণের জন্য।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন এমপি বলেন, ‘মির্জাপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৮ শতাংশ জমির ওপর ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ভবন নির্মাণ করা হবে।’