শেরপুরে করতোয়া থেকে বালু তুলে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নদীর তীর ভরাট করে গ্রামীণ একটি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নির্মাণাধীন ঐ সড়কের ২৫ থেকে ৩০ ফুটের মধ্যেই তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিনরাত নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর সেই বালু দিয়েই ভরাট করা হচ্ছে নদীর তীর। এ অবস্থায় নির্মাণাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, করতোয়া নদীর তীর ভরাট কাজে পাশেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এমনকি সেই পানির চাপে এই সড়কটিও ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। আর এই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে করতোয়া নদী ঘেষা উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগা দক্ষিণপাড়া এলাকায়।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক কানেক্টিভিটি (আইসিআইপি) প্রকল্পের আওতায় জাপান সরকারের অর্থায়নে এই উপজেলার মির্জাপুর ভিমজানী থেকে শুভলী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। আতাউর রহমান খান লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলমান এই সড়ক নির্মাণ কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি টাকা। এছাড়া সড়কটির খাগা দক্ষিণপাড়া অংশে করতোয়া নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া দেড়শ মিটার নদীর তীর ভরাট করে সড়ক নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে আছে নির্মাণাধীন সড়কসহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি। অথচ স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বিষয়টি উপেক্ষা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে এই সড়ক নির্মাণকাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. রায়হান বলেন, প্রকল্পের যথাযথ নিয়ম মেনেই সড়কটি নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। এছাড়া নদীর তীর রড দিয়ে পাইলিংয়ের পর ভরাট করা হচ্ছে। তাই বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে এই সড়কটি ধসে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেন তিনি।