এনওসি দেওয়া বন্ধ। ফলে ক্যানসার আক্রান্ত পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরতে পারলেন না বগুড়ার আব্দুল লতিফ। বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন আর সীমান্তে ছুটোছুটি করার পথে মৃত্যু হল তার পাঁচ বছরের সন্তান আল হাসান রফিকের। এদিকে, এনওসির দাবিতে গতকাল সোমবার কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক। অধিকাংশেরই দাবি, তাদের টাকা-পয়সা সব শেষ। কলকাতায় থাকার জায়গা নেই। এ অবস্থায় দেশে না ফিরলে খাবার না পেয়ে কিংবা অসুস্থ হয়ে তারা মারা যাবেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্যানসার কিংবা অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত বহু মানুষও ছিলেন।
আব্দুল লতিফ জানান, ‘কয়েক বছর ধরে তারা অসুস্থ সন্তানের চিকিত্সা করাতে ভারতে আসছেন। কয়েক মাস আগেও এসেছিলেন। তার ছেলে আল হাসান রফিকের পেটে টিউমার হয়েছিল। ভেলোরে চিকিত্সা চলছিল। টাকা পয়সা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা কলকাতায় চলে আসেন এনওসি নিয়ে ফেরার জন্য। গত ৫ মে থেকে তিনি কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে দরবার করছেন। কোনো লাভ হয়নি। দেশে ফেরার আশায় অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে বেনাপোল সীমান্ত লাগোয়া ভারতের বনগাঁয় আসেন। সেখানে গত রবিবার রফিক আরো অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সকরা জানান তার মৃত্যু হয়েছে।’ আব্দুল লতিফের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে দরবার করেও এনওসি পেলাম না। সন্তানকেও দেশে ফিরিয়ে নিয়েও যেতে পারলাম না। আপাতত তাকে হিমঘরে রেখে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার চেষ্টা করছি। জানি না মৃত সন্তানের লাশ কত দিন হিমঘরে রাখতে হবে।’
গাজীপুর থেকে ক্যানসার আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে ভেলোরে এসেছিলেন ফ্রেডরিক মুকুল বিশ্বাস। তিনি গাজীপুর মহানগর কমিটি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান পরিষদের সভাপতি। মুকুল জানন, গত এপ্রিলে মেয়েকে নিয়ে ভেলোরে গিয়েছিলেন। তার ব্রেস্ট ক্যানসার। সঙ্গে জামাতা, নাতিও রয়েছে। টাকা শেষ, হয়ে যাওয়ায় তিনি মেয়েকে নিয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কলকাতায় এসে আটকে পড়েছেন। এনওসিও দেওয়া হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ক্যানসার আক্রান্ত মেয়ের চিকিত্সা কীভাবে করাবেন, তা নিয়ে তিনি চিন্তায় পড়েছেন।