প্রকাশিত ২০২০ সালের শুমারিতে চীনের মূল ভূখণ্ডের জনসংখ্যা ৫ দশমিক
৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৪১ কোটিতে পৌঁছেছে
রয়টার্স ও বিবিসি
চীনের সর্বশেষ প্রকাশিত আদমশুমারির তথ্যে দেখা গেছে, শিশুজন্ম কমে যাওয়ায় গত দশকে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি ১৯৫০-এর পর থেকে সবচেয়ে কম হয়েছে। এ ঘটনা অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে চেষ্টারত বেইজিংয়ের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে অনেকের ধারণা ।
জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ দেশটি ১৯৭০-এর দশকে এক সন্তান নীতি নিয়েছিল, এরপর থেকেই সেখানে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধিতে ভাটা চলছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ২০২০ সালের শুমারিতে চীনের মূল ভূখণ্ডের জনসংখ্যা ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৪১ কোটিতে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। চীনে প্রতি এক দশকে একবার আদমশুমারি হয়। ১৯৫৩ সালে দেশটিতে আধুনিক জনগণনা শুরুর পর এটাই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। সর্বশেষ এ আদমশুমারিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশে গর্ভধারণের হার দেখা গেছে নারীপ্রতি ১.৩। এই সংখ্যা জাপান ও ইতালির কাছাকাছি।
২০১৬ সালে এক সন্তান থেকে সরে এসে দুই সন্তান নীতি নেওয়ার পর গর্ভধারণের হার এক দশমিক আটের কাছাকাছি ধরে ২০২০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১৪২ কোটি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল চীন। সেটি যে অর্জিত হয়নি, শুমারির ফলে তাও দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরি ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং জীবনধারণের খরচ বেশি হওয়ার কারণে চীনে দম্পতিদেন মধ্যে সন্তান জন্মদানে আগ্রহ কম বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ চিত্র বদলাতে বেইজিংয়ের ওপর এখন দম্পতিদের নানা ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদমশুমারির ফল প্রকাশিত হওয়ার পর চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান নিং জিঝে বলেন, ‘চীনের জনসংখ্যা সামনেই চূড়ার সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছাবে, যদিও ঠিক কবে পৌঁছাবে তা অনিশ্চিত। ধারণা করা হচ্ছে যে, নিকট ভবিষ্যতেও জনসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশিই থাকবে।’ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার কথা ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চীনের মূল ভূখণ্ডে জনসংখ্যা সংকুচিত হওয়া শুরু হতে পারে। জাতিসংঘের অনুমান, চীনের মূল ভূখণ্ডের জনসংখ্যা ২০৩০ সালে শিখরে পৌঁছাবে, এরপর থেকে নামতে শুরু করবে।
এপ্রিলের শেষদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত কয়েক জনকে উদ্ধৃত করে ২০২০ সালে চীনের জনসংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু আদমশুমারির ফলাফল তাদের দেওয়া তথ্যকে সমর্থন করছে না।