>> কৌশিক
ছোটবেলা থেকেই পড়ুয়া স্বভাবের। বন্ধুরা যখন ব্যস্ত শুধু পড়াশোনার গন্ডিতে, তিনি যেন খানিকটা ব্যাতিক্রম। পড়াশোনার পাশাপাশি সমানতালে বুঁদ ছিলেন গিটার আর আঁকাআঁকির গন্ডিতেও। বলছি তাসলিমা ইভার কথা। আঁকাআঁকির বিষয়গুলোও যে কিছুটা হলেও ভিন্ন। ইভার ভাষায়, ‘ছোটবেলা থেকেই কেনো জানি মনে হতো আমি আমার অনুভূতিগুলো আঁকতে পারি। এই কারণেই ভিন্ন ধরনের বিষয় নিয়ে আঁকাআঁকি করতাম।’
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল পড়াশোনার চাপ, শিল্পচর্চা শব্দটি যেনো ইভার জীবন থেকে বিলুপ্ত প্রায়। তিনি পড়াশোনা করছেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ডিপার্টমেন্টে। নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন এই করোনাকালে। শুরু করেন Eva’s scribbles-এর যাত্রা। কী এই Eva's scribbles? ইভা জানান, ‘এটি অনেকটা শখ থেকেই শুরু করা ফেসবুক পেজ। প্রথমদিকে শুধু আর্টের পিকচার পোস্ট করতাম। চেনা-অচেনা অনেকেই তাদের ঘর সাজাতে কিংবা বিয়ে বা বার্থডের গিফটের জন্যে আমার পেইন্টিংগুলো নিতে শুরু করেন।’ সাধারণ এক ধারণা থেকে শুরু করা সেই পেজ এক সময় রূপ নেয় ব্যবসায়ে। ইভা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ আমাদের শিল্পকর্মকে খুব একটা মূল্যায়ন করেন না। ভিনদেশী শিল্পীর চিত্রকর্ম অনেক টাকা দিয়ে কিনলেও আমাদের দেশের শিল্পীদের কাজ অর্ধেক দামেও কিনতেও নারাজ!’ একটু থেমে যোগ করেন, ‘আসলে শিল্পকর্মকে মূল্যায়ন করার মতো সমাজ তো আমরাই গড়ে তুলতে পারিনি। এজন্য অবশ্য আমাদেরকেই কাজ করতে হবে।’ কয়েকদিনে ইভা শখকে যেমন ব্যবসায় পরিণত করে উপার্জন করেছেন টাকা, ঠিক তেমনি সমানতালে মিলেছে মানুষের সাড়াও। অর্জনের তালিকায় আছে পড়াশোনায় ডিপার্টমেন্টে প্রথম হওয়া; সেইসঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য অর্জন আরও দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। জানালেন ভবিষ্যত পরিকল্পনা— গবেষক হয়ে দেশের জন্য কাজ করার পাশাপাশি রয়েছে দেশের চিকিত্সা ও ঔষধ শিল্পে অবদান রাখার স্বপ্ন!