ভারতে গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ২৬ জন কোভিড রোগীর মৃত্যুতে শোরগোল শুরু হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য হাইকোর্টের তদন্ত দাবি করেছেন গোয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্বজিত্ রানে। এদিকে অন্ধ্র প্রদেশে অক্সিজেন সংকটে আরো ১১ কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব জুড়ে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। খবর ডয়চেভেলে ও আনন্দবাজার পত্রিকার
গোয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাত ২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। মৃত্যু একটি বাস্তবতা। তবে তার কারণটি স্পষ্ট নয়। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সবন্ত গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, অক্সিজেনের জোগান ও কোভিড ওয়ার্ডে তা সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান রোগীদের জন্য কিছু সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদিও তিনি জানিয়ে দেন, রাজ্যে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি নেই। কিন্তু মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্বজিত্ রানে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, সোমবার পর্যন্ত গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি ছিল। তিনি বলেন, এই মৃত্যুর পিছনে কারণগুলো হাইকোর্টের তদন্ত করে দেখা উচিত। উচ্চ আদালতেরও হস্তক্ষেপ করা উচিত ও হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহের বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রস্তুত করা উচিত।
অন্ধ্র প্রদেশে ১১ করোনা রোগীর মৃত্যু
অন্ধ্রের তিরুপতিতে অক্সিজেন নিয়ে ট্রাক ঠিক সময়ে পৌঁছতে পারেনি। ফলে তিরুপতির সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা ১১ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শ্রৗপেরামবুদুর থেকে অক্সিজেনের ট্রাকটি আসছিল। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায়। জেলা প্রশাসক এম হরিনারায়ণন জানিয়েছেন, ২০ থেকে ২৫ মিনিটের জন্য অক্সিজেনের প্রেসার কমে গিয়েছিল। আর রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার রিলোড করতে পাঁচ মিনিট সময় লেগেছিল। এর মধ্যেই ১১ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে রবিবার তেলেঙ্গানায় দুই ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় একটি হাসপাতালের তিন জন রোগী মারা যান। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভারতে দৈনিক করোনা সংক্রমণ সাড়ে ৩ লাখের নিচে নামল। ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৪২ জন। ২৭ এপ্রিল শেষবার ভারতের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখের কম ছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রাণ হারিয়েছে ৩ হাজার ৮৭৬ জন। কোভিডের কারণে ভারতে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ জনের। মোট আক্রান্ত ২ কোটি ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৫১৭ জন।
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগের
দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভারতীয় ধরনটিকে বিশ্বের উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় ধরনটির বিষয়ে ডব্লিউএইচও এই সতর্কতা দিয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে মানুষে সংক্রমিত হওয়া নতুন করোনার রূপ বদল করে চলছে। এর মধ্যে গত বছর ভারতে এর যে পরিবর্তিত রূপ শনাক্ত হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক নাম বি.১.৬১৭ হলেও এটি ‘ইন্ডিয়া ভ্যারিয়েন্ট’ নামেই পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় দুই ডজন দেশে পৌঁছেছে এই ধরনটি। এটার তিনটি ‘সাব টাইপ’র মধ্যে একটি বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর কারিগরি কমিটির প্রধান মারিয়া ফন কারখোভ বলেন, আমরা বিশ্ব জুড়ে একে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছি। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে করোনা ভাইরাসের এই ধরনটির অতি সংক্রামক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে বলে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে।