জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের ওপর চীনের অত্যাচারের ক্রমবর্ধমান তদন্তের মধ্যেই জাপানের ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব অনুমোদন ও নিষেধাজ্ঞাগুলো সক্রিয় করার জন্য আইন প্রবর্তনের মতো পদক্ষেপ নিয়ে সরকারকে তার মানবাধিকার কূটনীতির উন্নয়নের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। গত শুক্রবার এ প্রস্তাব এসেছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পররাষ্ট্র বিষয়ক বিভাগ থেকে।
শনিবার (১৫ মে) নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটির সুপারিশে কর্পোরেট কারণে সৃষ্ট মানবাধিকার ঝুঁকিতে সরকারি সহায়তারও আবেদন জানানো হয়েছে। চলতি মাসেই প্রস্তাবগুলো জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।
হলোকাস্টের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ১৯৪৮ সালে গৃহীত জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশনটির পক্ষে গণহত্যার এই জাতীয় ক্রিয়াকলাপ আইন অনুসারে দণ্ডনীয় হওয়ার জন্য স্বাক্ষর প্রয়োজন। সেটিতে চীন সহ জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৫০টি দেশ স্বাক্ষর করেছিল। তবে জাপান তাদের মধ্যে নেই।
নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতাভুক্ত কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ পরিসরে দন্ডিত করার জন্য নতুন দেশীয় আইন গঠনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাপান সরকার যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। যার মধ্যে গণহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্র বা উস্কানি দেওয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিদেশি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে জাপানি আইনজীবিদের একটি আন্ত:দলীয় জোট শুক্রবার একটি বৈঠকও করেছে। এই দলটি প্রস্তাবিত বিলের একটি খসড়া প্রকাশ করেছে; যা সংসদের পক্ষে সরকারকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য চাপ দেওয়ার সুযোগ দেবে।
আগামী মাসে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে জাপানি আইনপ্রণেতাদের জোটের প্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল নাকাতানি বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে মানবাধিকার নিয়ে আমাদের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।
ইত্তেফাক/টিএ