ইত্তেফাক ডেস্ক
ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। করোনার ভয় উপেক্ষা করেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছুটছেন দর্শনার্থীরা। এ সময় অধিকাংশ দর্শনার্থীকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
ভোলা (দক্ষিণ): ঈদের দ্বিতীয় দিন ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি এলাকার মেঘনা তীরের শাহাবাজপুর মেঘনা পর্যটনকেন্দ্র ও চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা তীরের বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় ছিল। শাহাবাজপুর মেঘনার তীরে ঘুরতে আসা মো. ইকবাল জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথাও বের হতে পারিনি। ঈদ উপলক্ষ্যে সবাই মিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘুরেছি, অনেক ভালো লেগেছে। বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে ঘুরতে আসা মো. মামুন ও মো. বাচ্চু মিয়া জানান, করোনার কথা মাথা রেখে আমরা মাস্ক পরেছি এবং সঙ্গে হ্যাক্সিসল নিয়ে এসেছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এ বিষয়ে চরফ্যাশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, বিষয়টি অবগত আছি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য এখনো কোনো অভিযান শুরু করা হয়নি। তবে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সৈয়দপুর (নীলফামারী): উপজেলার তিনটি বিনোদনকেন্দ্র থিম পার্ক, রঙধনু পার্ক ও পাতাকুঁড়ি পার্কে উপচে পড়া ভিড় ছিল। কিন্তু কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। প্রতিটি পার্কের সামনে ও ভেতরে দর্শনার্থীরা গাদাগাদি করে চলাফেরা করছেন। দর্শনার্থী শাপলা খাতুন জানান, নাতিকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে এসেছি। এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করছি। এত মানুষের ভিড়ে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন—উত্তরে তিনি বলেন, দূরে দূরে থাকছি। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রমিজ আলম জানান, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে অবশ্যই বিনোদন পার্কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ: ঈদুল ফিতরের দিন বিকাল থেকেই যমুনা নদীর হার্ডপয়েন্ট ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীর স্পার, কাজীপুর মেঘাই পর্যটন এলাকা, এনায়েতপুর স্পার, উল্লাপাড়ার করোতোয় ব্রিজ, শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। সিরাজগঞ্জ শহরের হার্ডপয়েন্টে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে আসা শহরের আব্দুস ছালাম, সাথী ইসলাম, কলেজছাত্রী শাহানা জানান, ‘অনেক দিন ধরে ঘরবন্দি। ঈদে বাধ্য হয়ে বের হয়েছি। তবে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। মাস্ক ছাড়াই ঘুরছে। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতায় মাইকিং করছে পুলিশ।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল): বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ের হারবার পয়েন্ট, গরিলাবাড়ী ও বেলটিয়াপাড়ায় যমুনা পাড়ে শত শত মানুষ ঘুরতে আসছে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রচুর দর্শনার্থী যমুনার পাড়ে বেড়াতে এসেছেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে দর্শনার্থীরা এখানে বেড়াতে পারেন এজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সিলেট অফিস: সিলেটের সবকটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হলেও সিলেটের বিভিন্ন চা-বাগান, কোম্পানিগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর, গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ও জাফলং, জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর ও লালাখালে ভিড় করেন। তারা বলেছেন, ছেলেমেয়ে নিয়ে ঘরবন্দি থাকতে থাকতে তাদের যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে। রবিবার দুপুরে সিলেটের জাফলং এলাকায় আগত পর্যটকদের ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
রামগড় (খাগড়াছড়ি): সীমান্তের বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু, লেকপার্কের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ভাস্কর, মুর্যাল, ঝুলন্ত সেতু, বিজিবির জন্মস্মৃতি স্তম্ভ, প্রাচীন এসডিও বাংলো, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় দর্শনার্থীর ভিড় ছিল।
সুজানগর (পাবনা): উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের রাইপুর এবং সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের নারুহাটি পদ্মা নদীর পাড়ে ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছেন দর্শনার্থীরা। ঘুরতে আসা আলতাফ হোসেন বলেন, ঈদে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়িতে আসা লোকজন পদ্মা নদীর ঐ দুটি পয়েন্টে আনন্দ ভ্রমণে আসেন। থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর রাখতে তথা ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্ন করতে পদ্মা নদীর ঐ দুটি পয়েন্টে প্রতি বছরের মতো এ বছরও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।