সবার ওপরে মানুষের জীবন

জাতির উদ্দেশে ভাষণে

প্রধানমন্ত্রী

 বিশেষ প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের জীবনের মূল্য যে সব থেকে বেশি, সে কথা দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’ ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বাস দেন যে, সবাইকে করোনা টিকার আওতায় আনা হবে। কারণ তার সরকার ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহে একাধিক উেসর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি এটি স্থানীয়ভাবে উত্পাদনের ব্যবস্থা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং বেশ কয়েকটি রেডিও স্টেশন সরাসরি সম্প্রচার করে। প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বলেন, মানুষের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। কাজেই জনসমাগম এড়াতে না পারলে এ  রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিত্তবান যারা আছেন বা যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের প্রতি অনুরোধ, এই দুঃসময়ে আপনার দরিদ্র প্রতিবেশী, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ান। তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার সাহায্য হয়তো একটি পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাবে। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাক্তার, নার্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীসহ কয়েকটি পেশার কর্মীগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে থেকে কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবং কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা লকডাউন বা চলাচলের বিধিনিষেধ বলবত্ করতে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। সংবাদকর্মীরা সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে সংবাদ পরিবেশনের কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে গত এক বছরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনা টিকার প্রসঙ্গে বলেন, সবচেয়ে কার্যকর ও পরীক্ষিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়েই গণটিকাকরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ টিকা রপ্তানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সরবরাহব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় বিকল্প উত্স থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাশিয়া ও চিনের টিকা উত্পাদনকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। উপহার হিসেবে চীনের কাছ থেকে টিকা ইতিমধ্যে এসেছে। টিকা পাওয়ার জন্য আমেরিকার কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ব টিকাকরণ সংস্থা কোভ্যাক্সের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টিকা পাওয়া যাবে। বিভিন্ন উত্স থেকে ১ কোটি টিকা ক্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব শিগিগর দেশে টিকা আসতে শুরু করবে। তাছাড়া দেশেই টিকা উত্পাদন করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিজেদের টিকা তৈরিতে কয়েক মাস সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের সব নাগরিককে টিকার আওতায় নিয়ে আসব, ইনশাআল্লাহ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস শুধু মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে না, এই ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা গত বছর একটানা দুই মাসেরও বেশি সাধারণ ছুটি বলবত্ করেছিলাম। দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর গত মাসের ৫ তারিখ থেকে পর্যায়ক্রমে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে অগণিত মানুষের রুটি-রুজির ওপর আঘাত এসেছে। কিন্তু এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় ছিল না। কারণ আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, প্রতিটি দেশেরই স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি নির্দিষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। হঠাত্ করে দ্রুতগতিতে রোগী বাড়তে থাকলে তখন সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। আপনারা দেখেছেন, উন্নত দেশগুলো পর্যন্ত করোনা রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সে জন্য আমাদের কোনোভাবেই রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেওয়া যাবে না। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জীবন ও জীবিকার মধ্যে একটা সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, তাদের সহায়তার জন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’