চঞ্চল-সারিকার ‘ভাড়ুয়া’

প্রতি ঈদেই চঞ্চল-সারিকার একধিক নাটক প্রচার হয় বিভিন্ন টিভিতে। এবারো আরটিভিতে আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে তাদের বিশেষ টেলিফিল্ম ‘ভাড়ুয়া’। এটি রচনা করেছেন বৃন্দাবন দাস এবং পরিচালনা করেছেন সকাল আহমেদ।

নাটকটির গল্পে দেখা যাবে, গ্রামের যুবক সাহেব আলী-মেধাবী হলেও দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া করা হয়ে ওঠেনি। প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি কোনোমতে পাড় হয়েছিল। হাটে-মাঠে শ্রম বিক্রি করে তার জীবিকা চলে। তবে লেখাপড়া করতে না পাড়ার দুঃখ সারক্ষণ বুকে বাজে। গ্রামের সুন্দরী মেয়ে পিয়ারীকে তার খুব ভালো লাগে। তবে কোনোদিন প্রকাশ করার সাহস হয়নি প্রান্তিক সাহেব আলীর। পিয়ারীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব বেশি ভালো না হলেও তার লেখাপড়ার ব্যাপারে সমর্থন আছে। যে কারণে মেধাবী পিয়ারী অনেক কষ্টে লেখাপড়া করে চলেছে। স্বপ্ন দেখে একদিন অনেক বড় হবে সে। ঘটনাক্রমে সাহেব আলীর দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যায় পিয়ারীর কাছে। পিয়ারীরও সাহেব আলীর সরলতা এবং নির্মোহ স্বভাব ভালো লাগে। বিষয়টি জানাজানি হওয়া মাত্র দুই পরিবার সাবধান হয়ে বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু পিয়ারী লেখাপড়া ছেড়ে কিছুতেই বিয়ে করবে না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সাহেব আলী তাকে রাজি করায় এই শর্তে যে, বিয়ের পরও তার লেখাপড়ার কোনো ক্ষতি হবে না। যত দূর পর্যন্ত পিয়ারী পড়তে যায় সাহেব আলী সাধ্যমতো সমর্থন ও সহযোগিতা করে যাবে। এটা তার ভালোবাসার কসম।

বিয়ের পর থেকে শুরু হয় নতুন এক জটিলতা। পরিবারের লোকজন, প্রতিবেশী সবাই ঘরের বউয়ের লেখাপড়া নিয়ে বিদ্রুপ এবং বিরোধিতা শুরু করে। যা সাহেব আলীর ওপর এক মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। নানা উপদেশ তাকে হজম করতে হয় প্রতিনিয়ত। বউকে বেশি শিক্ষিত করলে চাকরি নিয়ে তোকে ছেড়ে চলে যাবে, তোর মতো অশিক্ষিত গরিবের ঘর করবে না ইত্যাদি। কিন্তু সাহেব আলী কারো কথা শোনে না। বিদ্রুপ করে মানুষ তাকে ভেড়ুয়া বলে। সাহেব আলীর বৃদ্ধা মা খুবই অসন্তুষ্ট। তার ঘরে নাতি-নাতনি হয় না। অনেকেই কানাঘুষা করতে থাকে। কেউ বলে সন্তান না নেওয়া সাহেব আলীর বউয়ের চালাকি।