করোনা ভাইরাসের প্রাণঘাতী দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে প্রায় এক মাস পর সোমবার দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখের নিচে ছিল। কিন্তু আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, সোমবার সকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৮৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে আর একই সময় মৃত্যু হয়েছে ৪১০৬ জনের।
দেশটিতে ২১ এপ্রিল থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ২৫ দিন ধরে দৈনিক ৩ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। তারপর থেকে এই প্রথম সংখ্যাটি তিন লাখের নিচে নামল। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৪৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র ভারতে ওপরে আছে। ২৮ এপ্রিল থেকে ভারতে প্রতিদিন কোভিড-১৯ এ ৩ হাজারেরও বেশি রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা এ দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯০ জনের। খবর এএফপি, রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
জানুয়ারিতে ভারতজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হলেও এখন টিকা সংকটে এর গতি শ্লথ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন রবিবার জানিয়েছেন, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো ৫১ লাখেরও বেশি টিকা পাবে। অতিরিক্ত কোভিড-১৯ রোগীর চাপে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় বহু দেশ ভারতে জরুরি সহায়তা হিসেবে চিকিত্সা সামগ্রী পাঠিয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা ২৭ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত রাজ্যগুলোতে ১১ হাজারেরও বেশি অক্সিজেন কনসেনট্রেইটর, ১৩ হাজার ৪৯৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ১৯টি অক্সিজেন জেনারেশন প্ল্যান্ট, ৭ হাজার ৩৬৫ ভেন্টিলেটর ও ৫ লাখ ৩০ হাজার শিশি রেমডিসিভির পাঠিয়েছে।
ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) উত্পাদিত অ্যান্টি-করোনা ভাইরাস ওষুধ সোমবার ছাড়া হচ্ছে। ওষুধটির নাম রাখা হয়েছে টু-ডিঅক্সি-ডি-গ্লুকোজ বা টু-ডিজি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করার জন্য দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশে আরোপ করা বিধিনিষিধের সময়সীমা আরো বাড়ানো হয়েছে। রবিবার থেকে শুরু হওয়া ১৫ দিনের লকডাউন চলছে পশ্চিমবঙ্গে। দেশটির উত্তর প্রদেশ ও বিহারে গঙ্গা নদীতে কয়েক দিন ধরে ভেসে আসা বহু লাশ পাওয়ার পর সৃষ্ট ক্ষোভের প্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় নদীর পাড়গুলো ধরে টহল জোরদার করেছে পুলিশ। মৃতদেহ যেন নদীতে ফেলা না হয় তা দেখতে রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।