বাংলাদেশে ডলারের দাম বরাবরই বেড়েছে। গত ২৫ বছরের মূল্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত এক ডলার। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন প্রতি ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যেত ৬৯ টাকা। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য প্রায় ৮৬ টাকা। অর্থ্যাত্ আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্বাধীনতার পর থেকে সরকার নির্ধারণ করে দিত। টাকাকে রূপান্তরযোগ্য ঘোষণা করা হয় ১৯৯৪ সালের ২৪ মার্চ। আর ২০০৩ সালে এই বিনিময় হারকে করা হয় ফ্লোটিং বা ভাসমান। এরপর থেকে আর ঘোষণা দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন বা পুনর্মূল্যায়ন করা হয় না। তবে বিনিময় হার ভাসমান হলেও পুরোপুরি তা বাজারভিত্তিক হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময়ই এতে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ রেখেছে। অর্থাত্ বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে অনুসরণ করে আসছে ‘ম্যানেজড ফ্লোটিং রেট’ নীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, ২০০০ সালে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের মূল্য ছিল ৫৪ টাকা। ২০১০ সালে তা বেড়ে হয় ৭১ টাকা। ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দামে ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। যদিও ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট কার্যকর থাকলে তা করা যায় না। কিন্তু সেখানেও স্থির থাকেনি ডলারের দাম।
অভিযোগ রয়েছে, ঘোষণা দেওয়ার সময় যে দাম বলে, পরবর্তীতে ভিন্ন দামে ডলার বিক্রি করে ব্যাংকগুলো। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের বাইরে কার্ব মার্কেটে (খোলা বাজারে) ডলারের দাম আরো বেশি। সেখানে প্রতি ডলার কিনতে গেলে এখন প্রায় ৯০ টাকা ব্যয় করা লাগে। ডলারের এই মূল্যবৃদ্ধির খড়গ পড়ে উদ্যোক্তার ওপর। ব্যবসা কিংবা শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের মেশিনারিজ ও পণ্য আমদানি করতে এলসি খুলতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে ৯০, ১২০, ১৮০ ও ৩৬০ দিন আগে ব্যাংক কোন মেশিনারিজ ও পণ্য আমদানি বাবদ ব্যয়ের হিসাব করে থাকে। কিন্তু আলোচ্য সময়ের মধ্যে কিংবা এর পরেও ডলারের মূল্য বেড়ে গেলে তা গ্রাহকের কাধে চাপে। এমনকি ঋণ পুরোপুরি শোধ না হওয়া পর্যন্ত ডলারের বাড়তি দাম গ্রাহককেই দিতে হয়। এতে করে মোট ব্যয় যেখানে গিয়ে দাঁড়ায় তা গ্রাহক ব্যাংক থেকে নেয়নি। অথচ পরিশোধের সময় তাকে বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে। তদুপরি, একেক ব্যাংকে একেক দরের বিষয়টিও মনিটর না করায় উদ্যোক্তা বিপাকে পড়ে। যার রেশ টানতে হয় ক্রেতা-ভোক্তাকেও।