ঈদে হরিণের মাংস দিয়ে ভোজন করেছেন অনেকে
নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস ও শেখ মোহাম্মদ আলী শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
ঈদকে কেন্দ্র করে হরিণ শিকারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল পূর্ব সুন্দরবন। অভায়রণ্যসহ বনের গহিনে বিভিন্ন স্থানে পাতা হয় হরিণ ধরার অসংখ্য ফাঁদ। এই ফাঁদে আটকে আছে অসংখ্য জ্যান্ত ও মরা হরিণ। সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করে ফেরা মৌয়ালরা এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে পিরোজপুরসহ সুন্দরবন সন্নিহিত লোকালয়ের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ঈদের দিন হরিণের মাংস দিয়ে তাদের রসনাবৃত্তিও করেন বলে জানা গেছে।
সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা মৌয়ালদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর এলাকার আলোরকোল, মরণেরচর, ভ্যাদাখালী, টিয়ারচর, কটকাসহ গহিন বনের বিভিন্ন জায়গায় হরিণ ধরার জন্য নাইলনের দড়ির অসংখ্য ফাঁদ পাতা রয়েছে। ফাঁদে আটকে হরিণ মরে আছে, মরা হরিণ বাঘে খাচ্ছে। মৌয়ালরা ফাঁদে আটকে থাকা অনেক হরিণ বনে অবমুক্তও করে দেন। শরণখোলা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৌয়াল জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান, ১৫ দিন আগে দুবলা অঞ্চলের মরণেরচর এলাকার বনে মধু সংগ্রহের সময় ফাঁদে আটকা পড়ে একটি হরিণ ছটফট করা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি সেটিকে বনে অবমুক্ত করে দেন। এ ঘটনার অদূরে ফাঁদে আটকে পড়া আরো একটি মরা হরিণ দেখতে পান, যেটিকে বাঘে অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে।
এ উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের একজন মৌয়াল জানান, সাত-আট দিন আগে দুবলা বন অফিসের অদূরে ভ্যাদাখালী এলাকায় মধু সংগ্রহের সময় ফাঁদে পাঁচটি মরা হরিণ দেখতে পান। তিনি সেগুলো দা দিয়ে কেটে টুকরো করে দিয়ে এসেছেন বলে জানান। খুড়িয়াখালীর অপর মৌয়াল টিয়ারচর এলাকায় অনেক ফাঁদ পাতা দেখেছেন বলে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক মৌয়াল জানান, গহিন বনে মধুর চাক খোঁজার সময় প্রায়ই হরিণ ধরার ফাঁদ তাদের চোখে পড়ে। ঝামেলা এড়ানোর জন্য তারা বিষয়টি বন বিভাগকে জানান না। এদিকে জ্ঞানপাড়া, চরদোয়ানী ইত্যাদি এলাকার চোরা শিকারিদের মাধ্যমে বন সন্নিহিত পিরোজপুর শহরসহ লোকালয়ের বিভিন্ন শহর-বন্দর-গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শখ মেটাতে হরিণের মাংস ভক্ষণ করেন। ঈদের দিন ও গত কয়েক দিন ধরে সুন্দরবন থেকে শিকার করা হরিণের মাংস অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির ডাইনিং টেবিলে স্থান পেয়েছে। কারো কারো ফ্রিজেও নিষিদ্ধ এই আমিষ সংরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে।
তবে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, বনে হরিণ শিকারের খবর সঠিক নয়। শিকারিদের অপতত্পরতা রোধে তাদের টহল ও নজরদারি রয়েছে।