স্বজনহারাদের মেলেনি শহিদ পরিবারের স্বীকৃতি
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
নীরবেই কেটে গেল কেতনার বিলের গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের ১৫ মে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ও রাংতা গ্রামের কেতনার বিলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে জীবন দিতে হয়েছে দেড় সহস্রাধিক নিরীহ মানুষকে। সেদিনের সেই শহিদরা ছিলেন গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার আটটি গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন পর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকারি উদ্যোগে এখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে আজও দেওয়া হয়নি স্বজন হারানোদের শহিদ পরিবারের স্বীকৃতি। গণহত্যা দিবসে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কোনো কর্মসূচি পালন না করায় স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মে মাসে রাজিহার গ্রামের ‘পাত্র’ বংশের ১২ দিনের শিশুপুত্র অমৃতসহ একই বাড়ির ১৯ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাজেন্দ্রনাথ পাত্র জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন ঢাল শুড়কি নিয়ে বাকাই গ্রামে পাকিস্তানি হানাদারের চার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে গৌরনদী কলেজের পাকিস্তানি শিবিরে। পরে হানাদার বাহিনী স্থানীয় আলবদর ও রাজাকারদের সহযোগিতায় বাকাল গ্রামে এসে ব্রাশ ফায়ার শুরু করে। পাকিস্তানি সেনাদের ভয়ে চাঁদশী, রাংতা, রাজিহার, চেঙ্গুটিয়া, টরকী, কান্দিরপাড়সহ আটটি গ্রামের মানুষ আশ্রয় নেয় কেতনার বিলের ধান ও পাটখেতে। কিন্তু পাকিস্তানি সৈন্যরা কেতনার বিলে লুকিয়ে থাকা গ্রামবাসীর ওপর ব্রাশ ফায়ার করায় অন্তত দেড় সহস্রাধিক মানুষ শহিদ হয়। হিন্দুপাড়ায় আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় সব বাড়িঘর।