ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জের ধরে শাশুড়ির মাথায় ও বুকে কাঁচি দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে কবির হোসেন নামে এক যুবক। রবিবার রাতে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন পাগলা শাহীবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামাতা কবির হোসেনকে রক্তমাখা কাঁচিসহ আটক করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাশুড়ি রাহিমা বেগমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার পানখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের ছেলে কবির হোসেন ফতুল্লার পাগলা শাহীবাজার এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে বাসিরুল বেগমকে দুই বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে কবিরের সঙ্গে তার শাশুড়ির বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বাড়ির কাছে সড়কে শাশুড়িকে একা পেয়ে মাথায় ও বুকে একাধিক কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কবিরকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দেয়। কবিরের দাবি, তার স্ত্রী বাসিরুল বাবার বাড়ি এলে আর স্বামীর বাড়ি যেতে চাইত না। বাসিরুলকে নিতে এলে তার শাশুড়ি রাহিমা বেগম বাধা দিতেন ও ঝগড়া করতেন। ১৭ দিন আগে তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। তখন স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি যেতে চাইলে তার শাশুড়ি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়ি থেকে ধারালো বড় কাঁচি নিয়ে এসে শ্বশুরবাড়ির কাছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। একপর্যায়ে শাশুড়ি আসা মাত্রই কাঁচি দিয়ে তার মাথায় ও বুকে একাধিক আঘাত করেন। ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কবিরকে আটক করা হয়েছে। আহত নারীর চিকিত্সা চলছে ঢাকা মেডিক্যালে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত অনুযায়ী পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।