প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতার ও হয়রানির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে প্রতিবাদের ঝড়। সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের পাশাপাশি নেটিজেনরাও প্রতিবাদ করছেন। গতকাল সোমবার (১৭ মে) রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানাভাবে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা।
রোজিনাকে গ্রেফতার ও হেনস্তার প্রতিবাদে সাংবাদিক জ.ই. মামুন লিখেছেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা সচিবালয়ে সাংবাদিক রোজিনার গলা টিপে ধরেন। এর বিচার চাই, এই মহিলার তাৎক্ষণিক অপসারণ চাই।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা সচিবালয়ে সাংবাদিক রোজিনার গলা টিপে ধরেন। এর বিচার চাই, এই মহিলার তাৎক্ষণিক অপসারণ চাই।
Posted by জ.ই. মামুন on Monday, May 17, 2021
সারা বিশ্বের মিডিয়ার কাছে বাংলাদেশের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন এর প্রতিবাদ করেন।
এই ঘটনা সারা বিশ্বের মিডিয়ার কাছে বাংলাদেশের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আজ ক্লাসে আমার কোর্স টিচারও এই ঘটনা আমাকে জিজ্ঞেস...
Posted by Ashraful Alam Khokan on Tuesday, May 18, 2021
গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক মুন্নী সাহা ‘কার গলা চাপলেন??? মনে রাখুন।’ লিখে তার ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেন।
কার গলা চাপলেন??? মনে রাখুন। রোজিনারা একা নন... গলা চাপলেও ভালো সাংবাদিকতা গলা ছাড়ে। আরো জোরে।
Posted by Munni Saha on Monday, May 17, 2021
সামাজিক আন্দোলন ও নারীবাদী কর্মী খুশি কবির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার আহ্বান জানান।
Rozina Islam is a senior reporter with Bangladesh’s leading newspaper, Prothom Alo. She has received accolades for her...
Posted by Khushi Kabir on Tuesday, May 18, 2021
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জাকির হোসেন রোজিনার মুক্তি চেয়ে পোস্ট করেন।
তখন স্বাস্থ্যসচিব ছিলো মি. মান্নান সাহেব।তিনি গল্প করতেন মহসিন হলে ছাত্রলীগ করতেন পরে জানলাম কোনোদিনও ছাত্রলীগ করেন...
Posted by S.M. Jakir Hossain on Tuesday, May 18, 2021
এদিকে সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্থা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে ‘নারীপক্ষ’ ফেসবুকে প্রতিবাদ বিবৃতি দেয়।
প্রতিবাদ বিবৃতি: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা এবং গ্রেফতার, নির্যাতনে নারীপক্ষ’র তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ
Posted by Naripokkho on Tuesday, May 18, 2021
অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সকাল পৌনে ৮টার দিকে শাহবাগ থানা থেকে তাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টার পর তাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় পরবর্তী তদন্তের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার।
গতকাল প্রথম আলো পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। তাকে সেখানে একটি কক্ষে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার পরিবার তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলেও তা দেয়নি পুলিশ। রাতে শাহবাগ থানায় অফিশিয়াল সিক্রেট আইনের (১৯২৩) ৩ ধারায় তার নামে মামলা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ উসমানী।
এর আগে, সোমবার (১৭ মে) বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান রোজিনা ইসলাম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, করোনার ভ্যাকসিন ক্রয়, সংগ্রহ সংক্রান্ত গোপনীয় নথি নাড়াচাড়া ও শরীরে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এ সব নথি জনগণের সামনে এলে অন্যান্য দেশের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।
তবে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের দাবি, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম দাবি করেছেন, সচিবের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি পিএস সাইফুল ইসলামের রুমে অপেক্ষা করছিলাম, এসময় পিএস সাইফুল ইসলাম নথিপত্র গায়েবের অভিযোগ তুলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে একজন পুলিশ কনস্টেবল ডেকে তার শরীরে হাত দেন। তাকে সাজানো অভিযোগে পিএস আটকে রাখে বলে দাবি করে তিনি বলেন, তিনি কোনো নথিপত্র নেননি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান পরে রাত ৯টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম সচিবের পিএসের রুমে ঢুকে মোবাইলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল-নথির ছবি তোলেন। আর কিছু কাগজপত্র তিনি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। একজন অতিরিক্ত সচিব, পুলিশের একজন সদস্য দেখে তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, এটা নিয়ে যেতে পারেন না। তখন পুলিশকে জানানোর পর মহিলা পুলিশ এসেছে। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব সিব্বির আহমেদ শাহবাগ থানায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি নথিপত্র সরানোর অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ইত্তেফাক/এসজেড