রক্তযোদ্ধা হাসিব শান্ত

>> এম শরীফ আহমেদ

বর্তমানে সমাজের কিছুসংখ্যক তরুণ যখন নেশা, গেমস কিংবা আড্ডায় ব্যস্ত থাকে— এমন সময়ে ভোলায় এক তরুণকে পাওয়া গেলা ভিন্ন নেশায় আসক্ত। এই তরুণের নেশা রক্ত দেওয়া এবং রক্তদাতা ব্যবস্থা করে দেওয়া। বলছিলাম রক্তযোদ্ধা তরুণ হাসিব শান্তর গল্প। মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন, এমন খবর পেলেই ছুটেন ডোনারের খোঁজে। তার রক্ত খোঁজার জায়গা অনলাইন। কল বা মেসেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডোনারকে কল করা শুরু করেন। ডোনার ম্যানেজ হলেই ডোনারকে নিয়ে নিয়ে ছুটেন রোগীর কাছে। ভোলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলার ডোনারদের তালিকা রয়েছে তার কাছে। প্রতিনিয়ত নানা কাজে যার সঙ্গে দেখা হয়, যাদেরকে রক্ত ম্যানেজ করে দেন, তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পাশাপাশি রক্তের গ্রুপটিও জেনে নেন। শান্ত দৈনিক গড়ে ১০-১২ জন ডোনার ব্যবস্থা করে দেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় এক হাজার ডোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ডোনার ম্যানেজ করার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহযোগিতা,অসহায় রোগীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ, উপকূলের নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন এই তরুণ।  রক্তযোদ্ধা এই তরুণের জম্ম ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলার চরফৈজুদ্দিনে। বুঝে ওঠার আগেই তার পিতা শাহজাহান এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মা রানু বেগম একজন গৃহিণী।

শান্তর সামাজিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালে। বর্তমানে ‘নিঝুম ব্লাড ফাউন্ডেশন’র মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ডোনার সংগ্রহ করে থাকেন। এছাড়াও তিনি কাজ করছেন ‘গুড ড্রিম বাংলাদেশ’, ‘উপকূল ফাউন্ডেশন’ সহ একাধিক সংগঠনে। শান্ত বলেন, ‘আমার জানামতে একটি মানুষও যেন রক্তের অভাবে মৃত্যুবরণ না করেন সে প্রতিজ্ঞায় দিনরাত কাজ করছি।’