‘লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১০’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন তিনি। এরপর অর্ধশতাধিক নাটক-টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন বিভিন্ন চরিত্রে। বিজ্ঞাপনচিত্র ও মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাকে। তিনি টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেছেন। সেগুলো সবই ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের কথা। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পড়াশোনা করে রাখি মাহবুবা হয়ে গেছেন মডেল-অভিনেত্রী থেকে প্রকৌশলী।
গত ১৬ মে সন্ধ্যায় ইত্তেফাক অনলাইনের নিয়মিত আয়োজন ‘টুনাইট শো’-তে হাজির হন রাখি। এসময় তিনি মডেলিং, অভিনয় ও তার সফলতার গল্প শেয়ার করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন ইত্তেফাক অনলাইন ইনচার্জ জনি হক।
‘লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১০’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেন। এরপর আলো ছড়ালেন। কিন্তু জনপ্রিয়তার মায়া কাটিয়ে পড়াশোনা করতে বিদেশে পাড়ি জমালেন। বাবার স্বপ্নপূরণ করতেই প্রকৌশলী হওয়া? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম বাস্তব জীবনের একটি অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে এমন চিন্তা ছিলো না। এরপর ভাগ্যক্রমে চ্যাম্পিয়ন হয়েই গেলাম। বিজয়ী মুকুট জেতার পর আমি আমার পূর্বে জীবনে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। মিডিয়াতে কাজ করার চিন্তাধারা আমার মধ্যে ছিলো না। কারণ, আমি কেবল ‘ও লেভেল’ শেষ করে ‘এ লেভেল’ শুরু করেছি। আমার বাবার পরিকল্পনা ছিলো ‘ও লেভেন’ শেষ করার পর আমি অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাবো। যখন আমি মিডিয়াতে ভালো করা শুরু করি তখন আমার মায়ের সঙ্গে আমি নিজেও ভাবছিলাম ‘এ লেভেল’ দেশ থেকেই শেষ করি। এরপর ২০১২ সালে হঠাৎ আমার বাবা মারা যান। এরপর সবকিছু অনেক জটিল হয়ে যায়। কারণ, আমি এবং আমার মা বাংলাদেশে আর আমার ভাই-আংকেলসহ সবাই অস্ট্রেলিয়ায়। সেই সময় মিডিয়াতে যেভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম; আমি নিজেও বুঝতে পারছিলাম আমার ‘এ লেভেল’ শেষ করা অনেক কঠিন হয়ে যেতো। সেজন্য অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়া। কেউ চিন্তাও করতে পারেনি মিডিয়াতে এতো ভালো একটা অবস্থান করে হুট করে চলে যাবো।’
রাখি মাহবুবার কথায়, ‘প্রথমত, অস্ট্রেলিয়ায় এসে তিন বছরের ব্যাচেলর অব টেকনোলজি কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু ২ সপ্তাহ পর আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুইচ করি। কারণ, ছোটবেলা থেকেই এটার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিলো। আমার এই জার্নিটা ছিলো অনেক কঠিন। এই ইউনিভার্সিতে একটা নিয়ম ছিলো- একজন শিক্ষার্থীর সবকিছু বিবেচনা করে প্রত্যেক বছরে ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে সেরা ১০০ জন নির্বাচিত করা হতো। তারা ভার্সিটির অনেক সুযোগ সুবিধা পেতো। তবে আমার সৌভাগ্য যে প্রত্যেক বছরেই (৪ বছর) আমি সেরা ১০০ জনের মধ্যে ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি ছিলো। সেজন্যই হয়তো এটা সম্ভব হয়েছে। ফাইনালি আমি উৎফুল্ল যে ২০১৭ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং চূড়ান্ত ডিগ্রিটা অর্জন করতে পেরেছি। এরপর আমি চাকরি শুরু করি।’
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান অ্যাকাডেমি অব পারফর্মিং আর্টস তথা ওয়াপা থেকে স্ক্রিন পারফরম্যান্সের ওপর এক বছরের ডিপ্লোমা করেছেন ২০১৯ সালে। সেখানে ভর্তি হওয়ার প্রক্রিয়াটা কী ছিলো- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আমি ফুলটাইম চাকরি করি। এর সঙ্গেই আমি ওয়াপার ডিগ্রি করি। ভাইয়ার কারণে এটা আমার জন্য সহজ হয়েছে। আর এটার জন্য আমারও আগ্রহ ছিলো। এটার ক্লাসের মধ্যে অভিনয় থেকে শুরু করে ডিরেকশন দেওয়া পর্যন্ত সিনেমা/নাটকের সব বিষয় পড়ানো হতো। পুরোপুরি একটা প্যাকেজ হিসেবে তৈরি করে।
২০১৯ সালে বেহনাজ আব্বাসি পরিচালিত ‘রিটেন ইন স্টোন’ একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন রাখি। এই ছবি সম্পর্কে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এটা আমার অফিসিয়াল শর্টফিল্ম এটা। এটা মূলত স্টুডেন্ট স্বল্পদৈর্ঘ্য। প্রথমত আমাকে অডিশন দিতে হয়েছিলো। আমি সবার মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম; আমি এটাতে চান্স পাবো না। কিন্তু ডিরেক্টর আমাকে সিলেক্ট করেছে। আমার লুকের জন্য তারা পুরো স্ক্রিপ্ট পরিবর্তন করেছে। সেদিক থেকে আমি ভাগ্যবতী।
ইত্তেফাক/বিএএফ