জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
জলঢাকার সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন ধান শুকানোর চাতালে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয় কৃষকরা ধান ও খড় শুকাতে সড়কগুলো ব্যবহার করছেন। এতে ব্যস্ততম এসব সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিড়ম্বনায় পড়ছেন চলাচল করা সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জলঢাকা-নীলফামারী মহাসড়কে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধান, ভুট্টা ও খড় শুকাচ্ছেন কৃষকরা। রাস্তার একধারে শুকানো হচ্ছে ধান-ভুট্টা, অপর প্রান্তে একই সড়কে চলছে ধান মাড়াই। কয়েক জন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বছর আমরা এখানেই ধান শুকাই। আমাদের কেউ কিছু বলে না। বিভিন্ন জেলা থেকে ঈদ করতে আসা অনেকে জানান, আমরা প্রতি বছর ঢাকা থেকে গ্রামে ঈদ করতে আসি। রাস্তাগুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই তাই ছোটখাটো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা।
গাড়িচালক আইনুল ও জব্বার জানান, সড়কগুলোতে গাড়ি চালাতে আমাদের অনেক সতর্ক থাকতে হয়। তার পরেও দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তা থেকে ধান-ভুট্টা শুকানো বন্ধ করা না হলে যে কোনো সময় প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তাগুলোর অবস্থাও করুণ। এ সময় দেখে বুঝার উপায় নেই—এটি রাস্তা না ধান শুকানোর চাতাল। এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এসব ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানান, প্রথমে তাদের নিরুত্সাহিত করা হবে। তারপরও ধান শুকানো বন্ধ না হলে পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।