‘আমি মনে করি না তারা লম্বা সময় খেলার বাইরে ছিল। কারণ তারা আইপিএলে খেলেছে। এটা সত্য তারা কোয়ারেন্টাইনে ছিল অনেক দিন। কিন্তু তাদের যে অভিজ্ঞতা আছে, তাতে করে দ্রুত মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না। ওরা প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবে, কয়েক দিন স্কিল ট্রেনিং করবে। আশা করি এটা তাদের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট হবে।’
স্পোর্টস রিপোর্টার
ভারত থেকে ফিরে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনেই ঈদুল ফিতর কেটেছিল সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের। বিসিবির চেষ্টায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পূর্ণ করতে হয়নি দুই ক্রিকেটারের। কারণ দুই জনই করোনা পরীক্ষায় দুইবার নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়েছিলেন। তাই সরকারের অনুমতি পাওয়ায় গত সোমবার রাতে নির্ধারিত মেয়াদের দুই দিন আগেই কোয়ারেন্টাইন মুক্ত হয়েছেন তারা।
কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েই গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন সাকিব-মুস্তাফিজ। গতকাল বিকালে মিরপুর স্টেডিয়ামে হাজির হন তারা। যদিও অনুশীলন করা হয়নি কারোই। অনুশীলন শুরুর আগেই নেমেছিল বৃষ্টি। গা গরমের ফুটবল খেলার মধ্যেই বৃষ্টির কারণে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয় ক্রিকেটারদের। পরে আরেক দফা মাঠে নেমেছিলেন তামিম-মুশফিকরা। কিন্তু বৃষ্টি ও ভেজা মাঠের কারণে ব্যাটে-বলে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারেননি কেউই।
গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যার পরও ফ্লাড লাইটের আলোয় অনুশীলনের কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। বৃষ্টিতে সেই পরিকল্পনা ভেসে যায়। রুবেল হোসেন ও হাসান মাহমুদের ইনজুরির কারণে প্রস্তুতি ম্যাচের আগে বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে ডাকা হয়েছে লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে। শ্রীলঙ্কা দলে লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গা রয়েছেন। তাকে খেলার অনুশীলনের জন্যই বিপ্লবকে ডাকা হয়েছে।
জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু গতকাল বলেছেন, ‘আমরা বিপ্লবকে প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছি কারণ কয়েকজন ক্রিকেটারকে আমরা পাচ্ছি না।’
আইপিএল স্থগিত হওয়ার পর টানা ১৮ দিন ক্রিকেটের বাইরে সাকিব-মুস্তাফিজ। যেখানে তাদের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে। ব্যাটে-বলের সংস্পর্শে না থাকলেও তাদের প্রস্তুতিতে বড় ঘাটতি দেখছেন না প্রধান নির্বাচক। নান্নুর মতে, ২০ মে বিকেএসপিতে প্রস্তুতি ম্যাচ এবং কয়েকদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে হোম সিরিজের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন তারা।
গতকাল নান্নু বলেছেন, ‘আমি মনে করি না তারা লম্বা সময় খেলার বাইরে ছিল। কারণ তারা আইপিএলে খেলেছে। এটা সত্য তারা কোয়ারেন্টাইনে ছিল অনেক দিন। কিন্তু তাদের যে অভিজ্ঞতা আছে, তাতে করে দ্রুত মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না। ওরা প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবে, কয়েকদিন স্কিল ট্রেনিং করবে। আশা করি এটা তাদের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট হবে।’
এদিকে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষাতেও বাংলাদেশের প্রাথমিক দলের কোনো ক্রিকেটারের শরীরে করোনা ধরা পড়েনি। সবাই নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন। বিসিবির চিকিত্সক মনজুর হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টেও সবার নেগেটিভ এসেছে। আজ (গতকাল) সন্ধ্যার পর সবাই টিম হোটেলে উঠবে বলে আশা করছি।’