গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে থাকা খাল ও জলাশয়গুলো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে রাজধানীতে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে হাতিরঝিলের সব বন্ধ স্লুইসগেট খোলা রাখারও সিদ্ধান্ত দেন মন্ত্রী। গতকাল ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল এবং প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ-বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় ভার্চুয়াল সভায় সংযুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
স্থানী সরকার মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে ২৬টি খাল দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুই মেয়র ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায়, খালসমূহ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরেও রাজধানীতে ১৭টি খাল রয়েছে। এই খাল ও জলাশয়সমূহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, হস্তান্তরপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে আহ্বায়ক করে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ-সংস্থা ও দপ্তরের প্রতিনিধি নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট দেবে। রিপোর্ট অনুযায়ী হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া, দুই সিটি করপোরেশন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত খাল ও জলাশয়সমূহের সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণে তাদের পরিকল্পনার কথা জানাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা ওয়াসা থেকে প্রাপ্ত খালের মতো গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রাপ্ত খালসমূহ সংস্কার-সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, নগরীর অনেক বাসাবাড়ির মালিক তাদের নিজেদের সেপটিক ট্যাংক না রেখে স্যুয়ারেজের লাইন সরাসরি খালে দিয়ে থাকেন। এসব বাসার মালিকরা যদি নিজেদের সেপটিক ট্যাংক না তৈরি করেন তাহলে আগামীতে এসব লাইন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে রাজধানীর সব খাল দখলমুক্ত, সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া মশার প্রজনন ঠেকাতেও খালগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফ আহমেদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ-সংস্থা ও দপ্তরের প্রতিনিধিগণ সংযুক্ত ছিলেন।