অর্থপাচারের অভিযোগে ক্রিসেন্টের বিরুদ্ধে মামলা এনবিআরের

অর্থপাচারের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গতকাল রাজধানীর চকবাজার থানায় আলাদা তিনটি মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ। ওই মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের চারজন ছাড়াও জনতা ব্যাংকের ১৩ জনসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এর আগে গতকালই ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গ্রেফতার হয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন— ক্রিসেন্ট লেদার ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এম এ কাদের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনি, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুল জাহান মিরা। এছাড়া জনতা ব্যাংকের তত্কালীন সিনিয়র অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. মনিরুজ্জামান, মো. সাইদুজ্জামান, প্রিন্সিপাল অফিসার মুহাম্মদ রুহুল আমিন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল  অফিসার মো. মগরেব আলী, মো. খায়রুল আমিন, এজিএম মো. আতাউর রহমান সরকার। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। এ ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন— ব্যাংকটির ডিজিএম মো. ইকবাল,  এ কে এম আসাদুজ্জামান, কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ জিএম রেজাউল করিম, তত্কালীন জিএম ও বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি ফখরুল আলম, তত্কালীন জিএম ও বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি মো. জাকির হোসেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো পারিবারিকভাবে পরিচালিত হয়। এই গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠান ৯১৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করেছে। এরমধ্যে ক্রিসেন্ট লেদার ৪২২ কোটি টাকা, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৬ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখিত পরিমাণ অর্থের রপ্তানি বিল জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখা কর্তৃক ক্রয় করা হলেও ওই টাকা দেশে আসেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালে ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার ইস্যুটি তোলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।  তিনি বলেন, টাকার পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু অর্থপাচার নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ সময় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. শহীদুল ইসলাম ছাড়াও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থপাচার ইস্যুতে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও দুর্নীতি দমন কমিশন। এই ইস্যুতে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ মামলা করতে পারে কিনা— তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, অর্থপাচার সংক্রান্ত ২৭টি অপরাধের মধ্যে একটি শুল্ক সংক্রান্ত। এখানে শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধ হয়েছে কিনা— তা আগে দেখতে হবে। এর আগে অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগ ইস্যুটি দেখবে দুদক বা বিএফআইইউ। এ ঘটনায় শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়টি পরিষ্কার নয়। ফলে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ মামলা করতে পারে কিনা— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।