গাজায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আট দিন ধরে চলছে সহিংসতা। গাজায় বর্বর হামলা চালানো ইসরাইলকে সমর্থন জানিয়ে ঘরে-বাইরে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অবশেষে চাপের মুখে দুই পক্ষকেই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছেন, সহিংসতা বন্ধে মিসর ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও দেশটি ইসরাইলের কাছে ৭৩৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে। এদিকে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ওআইসি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আলজাজিরার
হোয়াইট হাউজ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা করতে ইসরাইলকে উত্সাহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৬১ শিশু ও ৩৬ নারী রয়েছেন। এছাড়া গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান হামলায় আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত দেড় হাজার। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় ৫২ হাজার নাগরিক মৃত্যুর ভয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়েছেন। অনেকের আবার বাড়ি-ঘর ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজায় প্রায় সাড়ে চারশ’ ভবন ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি হাসপাতাল এবং নয়টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। গাজায় গতকালও কয়েক ডজন বিমান হামলা চালায় ইসরাইল এবং এতে অনেক ভবন ধ্বংস হয়। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে হামাসের রকেট ইসরাইলে থাইল্যান্ডের দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসরাইল বলছে, হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু অনিচ্ছাকৃত। ইসরাইলের দাবি, নিহতদের বেশির ভাগই ফিলিস্তিনি জঙ্গি। তবে গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাস এই দাবি অস্বীকার করেছে। এই সংঘর্ষ বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক আহ্বান অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসেন। এরপর তারা গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তবে ইসরাইলের ঘনিষ্ট মিত্র হাঙ্গেরির বিরোধিতায় যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ইসরাইলি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম, ইসরাইলের মধ্যে আরব শহর এবং পশ্চিম তীরে গতকাল সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে।
ইসরাইলকে আরো অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনের গাজায় দখলদার ইসরাইলের বর্বর হামলার মধ্যেই দেশটিকে আরো অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে ইসরাইলের কাছে ৭৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত ৫ মে মার্কিন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র বিক্রি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল। তখন ডেমোক্র্যাটদের একটি নতুন প্রজন্ম নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অস্ত্র বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারা আরো সময় চান। যদিও ইসরাইলকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ আইনপ্রণেতা সমর্থন দিয়েছেন। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের আগেই এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি
গাজায় ইসরাইলের কর্তৃক সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ইসরাইলের চলমান এই নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়ে ওআইসির স্বতন্ত্র স্থায়ী মানবাধিকার কমিশন ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত’র (আইসিসি) মাধ্যমে তদন্ত করে এই বিবাদের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইসরাইল ও ফিলিস্তিনবিষয়ক মুখপাত্র ওমর শাকের বলেছেন, গাজায় ইসরাইলের বোমা হামলা যুদ্ধাপরাধের সমান।