পশ্চিম তীরের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদারদের একের পর এক রকেট হামলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সংকট দেখা দিয়েছে খাদ্য, ওষুধ ও পানির। কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সেখানে মানবিক তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এক টুইটে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আমরা দেখছি গাজায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সেখানকার বাড়িঘর ও জরুরি স্থাপনাগুলো তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। আন্তর্জাতিক মহলের উচিত দ্রুত মানবিক তহবিল গঠন করে ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করা।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের গাজার অবস্থা এখন করুণ। সেখানে বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অসংখ্য মানুষ জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। এমতাবস্থায় তাদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ। সে জন্য সীমান্তও খুলে দেয় ইসরায়েল। কিন্তু হামাসের রকেট হামলার কারণে সীমান্ত আবার বন্ধ করে দিয়েছে তারা। ফলে অঞ্চলটিতে ত্রাণবাহী ট্রাক আর ঢুকতে পারছে না। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি ও আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ মে) ইসরায়েল ত্রাণ নেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে কারেম আবু সালেম সীমান্ত খোলার ঘোষণা দিলে সেখান দিয়ে ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকতে শুরু করে। তখন এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় জাতিসংঘ। একইসঙ্গে ইসরায়েলকে প্রধান ইরেজ ক্রসিংটিও খোলার আহ্বান জানানো হয়। যেন মানবাধিকার কর্মী এবং সরবরাহগুলো প্রবেশ করতে পারে।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ফিলিস্তিনি বাহিনীর মর্টার হামলায় থাইল্যান্ডের দুই নাগরিক নিহত এবং এক ইসরায়েলি সেনা সামান্য আহত হয় বলে জানায় ইসরায়েলি পুলিশ। এরপরই তারা আবারও সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দেয়।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাত নবম দিনে গড়িয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর বর্বর গোলাবর্ষণ ও রকেট হামলায় এ পর্যন্ত প্রাণ গেছে ২২০ জন ফিলিস্তিনির। নিহতদের মধ্যে শিশু আছে ৬৩ জন। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় হাজার।
ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর রকেট হামলায় অসংখ্য নিহতের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজার হাসপাতালগুলো। যার কারণে সেখানে বন্ধ হয়ে গেছে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ টেস্ট। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডক্টর আশরাফ আল-কিদরার বরাতে আল জাজিরার সাংবাদিক সামি আবু সেলিম বলেন, শুধুমাত্র একটি ল্যাবে কোভিড টেস্টগুলো করা হতো। ইসরায়েলি হামলার কারণে যা বন্ধ হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে তাহলে বোমা ও রকেট হামলা থেকেও বিপজ্জনক কিছু অপেক্ষা করছে ফিলিস্তিনিদের জন্য। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ইতিমধ্যে গাজায় ওষুধের সংকটও দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। যাদের জরুরি ওষুধ প্রয়োজন তারা ভীষণ বিপদে পড়েছেন। সেইসঙ্গে ঝুকিতে পড়বেন করোনা আক্রান্তরা।
We are seeing immense human suffering and extensive damage to homes and vital infrastructure in Gaza.
— António Guterres (@antonioguterres) May 18, 2021
I call on the international community to ensure adequate funding for our humanitarian operations in Gaza. https://t.co/lbKUIbhulU
ইত্তেফাক/টিআর