বিআইডব্লিউটিএ’র দায়ের করা মামলার আসামি ক্ষমতাসীন দলের পদবীর প্রভাবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গত সোমবার (১৭ মে) শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরে মুজিব কেল্লার কাজ পরিদর্শন করেন সে সময় তার সাথে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তার করা মামলার ১ নম্বর আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুসকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক প্রোগ্রামের প্রকাশ্যে দেখা যায়। ফেইসবুকে এটি প্রকাশ হলে এ নিয়ে এলাকার সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মামলার বাদি। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।
সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে স্পিডবোটে যাত্রী পরিবহন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা বন্দর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বাদি হয়ে গত বুধবার (১২ মে)। শিবালয় থানায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুসসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের ৭ জন নেতার নামে মামলা করেন
মামলার অপর আসামিরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক নকুল চন্দ্র শীল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নূরে আলম সিদ্দিকী, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু, শিবালয় সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং যুবলীগের কর্মী মো. জিন্নাহ।
মামলার এজাহার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচল বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুধবার (১২ মে) কতিপয় ব্যক্তি আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে স্পিডবোট ও লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করেন। খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা কার্যালয়ের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ তার সহকর্মীদের নিয়ে আরিচা ঘাটে গিয়ে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি সেখানে অবস্থান করলে তার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস এবং স্পিডবোট চালানোর নির্দেশ দেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কুদ্দুসের নির্দেশে অন্য নেতা-কর্মীরা সরকারি কাজে বাধা দিতে থাকে এবং বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ধাক্কা মেরে লাঞ্ছিত করেন।
এই বিষয়ে মামলার বাদি মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মামলার সাতদিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার হয় নি। ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতা হওয়াতে আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে প্রশাসনের আরও তৎপর হওয়া উচিত। এছাড়া গোপনে ভোর বেলা অবৈধ স্পিডবোট পরিচালনা করছে।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ কবীর বলেন, আমরা মামলার ঘটনা তদন্ত করছি। চার্জশীট প্রস্তুত শেষে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিনিয়ত আমরা আসামিদের নজরদারি করছি। আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
মামলা হওয়ার পর কিভাবে আসামিরা অবাধে ঘুরে বেড়ায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, আইনের বাইরে কেউ না, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। রাজনীতি আর ব্যবসা এক জিনিস না। স্পিডবোট যদি অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে মামলার যৌক্তিকতা আছে। মামলা হয়েছে এখন আদালত রায় দেবে, দলীয় কোনো নেতা-কর্মী অভিযোগ প্রমাণ আমরা অবশ্যই সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
প্রসঙ্গত: এ নিয়ে ইত্তেফাকে গত ২২ অক্টোবর ২০২০ তারিখে “রুট পারমিট ছাড়া ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্পিডবোট” ও ২১ নভেম্বর ২০২০ “অবৈধ স্পিডবোট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যমুনা” শিরোনামে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। মামলা পরবর্তী সময়ে ১৪ মে ২০২১ ‘‘আওয়ামী লীগের ৭ নেতার নামে বিআইডব্লিউটিএ’র মামলা’’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
ইত্তেফাক/এমএএম