যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য ও গণপরিষদের প্রাক্তন সদস্য, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, সমাজ সেবক, মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই)-এর ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ মে) শিবচরের দত্তপাড়ায় তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাতে অংশ নেন মরহুমের বড় ছেলে শিবচর থেকে ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। বর্তমান ১১তম জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারি নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এবং মরহুমের কনিষ্ঠ ছেলে ফরিদপুর-৪ তথা ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন থেকে নির্বাচিত দুই বারের সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানসহ পরিবারের সদস্যরা। এসময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া এ সময় শিবচর, ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌরসভা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই মহান নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সকাল ৮ টায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পৌরসভা ও প্রতিটি ইউনিয়নের ৩-৪ টি মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজন করা হয়েছে। এই মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দত্তপাড়ায় তার নিজ বাড়ি ও সূর্যনগর কলেজের মজিদের বাদ আছর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এই মহান নেতার ১৯৯১ সালের এই দিনে ৫ম জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদা ভাই ১৯৩৪ সালের ১৫ আগস্ট মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বিখ্যাত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দাদা ভাই স্কুল জীবন শুরু করেন দত্তপাড়ার টিএন একাডেমি থেকে। এইচএসসি মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজে, বিএসসি পাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ক্রিয়া প্রেমী দাদাভাই ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন থেকেই মামা বঙ্গবন্ধুর সহচর ছিলেন। ১৯৬৯ সালের উত্তাল দিনগুলোতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন মাদারীপুর থেকে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন দাদাভাই। তার নেতৃত্বে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসে যুদ্ধ চলাকালীন মুজিব বাহিনীর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদাভাইয়ের বড় ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, যিনি লিটন চৌধুরী নামে অধিক পরিচিত। মাদারীপুর-১ তথা শিবচর থেকে ছয় বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। বর্তমান ১১তম জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারি। দাদাভাইয়ের ছোট ছেলে মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ফরিদপুর-৪ তথা ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন থেকে নির্বাচিত দুই বারের সংসদ সদস্য এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য আওয়ামী যুবলীগ।
দাদাভাই ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু অংশ- প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ১৯৭০, সংসদ সদস্য (প্রথম জাতীয় সংসদ)-১৯৭৩, সংসদ সদস্য (পঞ্চম জাতীয় সংসদ)-১৯৯১, সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি-দৈনিক বাংলার বাণী, আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, সভাপতি-মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগ, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি-শেখ ফজিলাতুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (শিবচর), সভাপতি-মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটি (খুলনা), প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি-আবাহনী ক্রীড়া চক্র (খুলনা), সাবেক সভাপতি-আরামবাগ ক্লাব।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং মুজিব বাহিনীর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগসহ দেশ পুনর্গঠনে কাজ করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পেছনেও দাদাভাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই অসাধারণ প্রতিভাবান মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্মরণে তুমি’ শিরোনামে বিশেষ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়।
ইত্তেফাক/এমএএম