চলচ্চিত্রে তাদের দুই যুগে পদার্পণ

আনন্দ বিনোদন প্রতিবেদক

 

১৯৯৮ সালের ১৫ মে একইদিনে দুটি সিনেমা মুক্তির মধ্যদিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে আরো দুজন নায়িকার অভিষেক হয়েছিল। একজন নায়িকা তামান্না, অন্যজন নায়িকা পূর্ণিমা। প্রয়াত মেধাবী পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের পরিচালনায় ‘ভণ্ড’ সিনেমার মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তামান্নার। এতে তামান্নার বিপরীতে ছিলেন চিত্রনায়ক রুবেল। অন্যদিকে একই দিনে জাকির হোসের রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার। এই সিনেমায় পূর্ণিমার বিপরীতে ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। ব্যবসায়িকভাবে সফল হয় ‘ভণ্ড’ সিনেমাটি। তামান্নার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেই সময় সিনেমাটি নির্মাণে খরচ হয়েছিল এক কোটি টাকারও বেশি। সিনেমাটি কয়েক কোটি টাকা ব্যবসা করে। অন্যদিকে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত পূর্ণিমা অভিনীত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মধ্যদিয়ে ছোট্ট সেই পূর্ণিমাও নায়িকা হিসেবে আলোচনায় চলে আসেন। রোমান্টিক ঘরানার গল্পের সিনেমা ‘এ জীবন তোমার আমার’ বিশেষত তরুণ দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। এই সিনেমায় কুমার শানু ও মিতালী মুখার্জির গাওয়া ‘শতবার পৃথিবীতে আসবো আমি, তোমাকেই শুধু ভালো বাসবো আমি’ গানটি বেশ সাড়া ফেলে। গানটিতে লিপসিং করেছিলেন পূর্ণিমা ও রিয়াজ। গানটি লিখেছিলেন মনিরুজ্জামান মনির এবং সুর-সংগীত করেছিলেন আলাউদ্দিন আলী। অন্যদিকে তামান্না অভিনীত ‘ভণ্ড’ সিনেমায় তামান্না ও রুবেলের লিপে যাওয়া ডলি সায়ন্তনী, এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘ও সাথীরে আমারই জীবন, আমারই মরণ শুধু তুমি, তুমি যে আর কারো না’ গানটিও বেশ সাড়া ফেলে। ‘ভণ্ড’ সিনেমা মুক্তির পর তামান্নার যেমন ব্যস্ততা বেড়ে যায়, তেমনি ব্যস্ততা বাড়তে থাকে পূর্ণিমারও। কিন্তু ২০০৩ সাল পর্যন্ত একের পর এক ভালো ভালো গল্পের সিনেমা ‘হূদয়ে লেখা নাম’, ‘তুমি আমার ভালোবাসা’, ‘শত্রু তুমি বন্ধু তুমি’, ‘কঠিন শাস্তি’, ‘সন্ত্রাসী বন্ধু’, ‘আমার প্রতিজ্ঞা’, ‘মুখোশধারী’ সিনেমায় কাজ করে তামান্না চলে যান সুইডেনে। ২০১৩ সালে মঈণ বিশ্বাসের ‘পাগল তোর জন্য’ সিনেমায় তার শেষ অভিনয় করা। মুঠোফোনে সুইডেন থেকে তামান্না বলেন, ‘ভণ্ড’ মুক্তির পর আমি একসঙ্গে অনেগুলো সিনেমাতে কাজ করার প্রস্তাব পাই। কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক সিনেমাগুলোতে আমার অভিনয় করা হয়ে উঠেনি। সেটা আসলে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। সত্যি বলতে কি—আমি তখন এক ধরনের চাপে পড়ে সিনেমাগুলোতে কাজ করতে পারিনি। সেটা যে ভুল ছিল পরবর্তী সময়ে তা অনুভব করেছি। যাইহোক জীবনে যাই হয়েছে সেটা নিয়ে এখন আর ভাবি না। দর্শক এখনো আমাকে মনে রেখেছেন, এটাই আসলে বিশাল প্রাপ্তি। এখনো আমার সম্পর্কে তাদের আগ্রহ আছে, এটা সত্যিকারের ভালোবাসা। খোকন ভাইকে খুউব মিস করি। দোয়া করি আমার চলচ্চিত্রের গুরু খোকন ভাইকে যেন আল্লাহ বেহেস্ত নসীব করেন।’ অন্যদিকে পূর্ণিমা ‘এ জীবন তোমার আমার’ মুক্তির পর সিনেমাতেই নিজেকে মনোনিবেশ করলেন। দীর্ঘ ২৩ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন কোটি দর্শকের ভালোবাসা।  ‘এ জীবন তোমার আমার’র পর পূর্ণিমা ‘মনে রেখো আমায়’, ‘খবরদার’, ‘আজকের দাপট’, ‘মায়ের সম্মান’, ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি’, ‘মেঘলা আকাশ’সহ আরো বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে ২০০৩ সালে মতিউর রহমান পানু পরিচালিত ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্যদিয়ে পূর্ণিমা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন। এস এ হক অলিকের ‘হূদয়ের কথা’ সিনেমাতে অভিনয় করেও আলোচনায় আসেন পূর্ণিমা। প্রথম সিনেমা ‘এ জীবন তোমার আমার’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হূদয়ের কথা’ তিনটি সিনেমাতেই পূর্ণিমার বিপরীতে ছিলেন রিয়াজ। মুক্তির অপেক্ষায় আছে পূর্ণিমা অভিনীত নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের পথচলা প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমার আজকের অবস্থানে আসার নেপথ্যে আমার আম্মা অনেক কষ্ট করেছেন। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই প্রযোজক মতিউর রহমান পানু ভাই ও পরিচালক জাকির হোসেন রাজু ভাইয়ের কাছে। দর্শক ভক্তের ভালোবাসায় এখনো পথ চলছি স্বাচ্ছন্দ্যে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’