চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
এক সময় বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে বড় বড় পাটের ব্যবসা ছিল। বেগমগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে পাট উত্পাদন হতো। দেশের অনেক পাটকলের ক্রয়কেন্দ্র ছিল চৌমুহনীতে। এখন সেসব নেই। নানা প্রতিকূলতায় চাষিরা এখন পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বাণিজ্যিক পাট চাষ। কোথাও কোথাও এখনো পাট চাষ হলেও সেগুলো পাটের জন্য নয়, শাক হিসেবে বিক্রি করার জন্য চাষ হচ্ছে।
সরেজমিনে বেগমগঞ্জের রছুলপুর, দুর্গাপুর, মিরওয়ারিশপুর, নরোত্তমপুর, ছয়ানিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চাষিদের সঙ্গে আলাপকালে চাষি সিরাজ মিয়া, আবদুর রহীম, মমতাজ মিয়াসহ অনেকে জানান, আগে বেগমগঞ্জে প্রচুর পাট চাষ হতো। চৌমুহনীতে বড় বড় পাটের ব্যবসা ছিল। আদমজী, ভাওয়ানী, ডেমরা জুট মিলসহ বিভিন্ন জুট মিলের ক্রয়কেন্দ্র ছিল এখানে। চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি পাট ক্রয় করত তারা। তাছাড়া স্থানীয় ডেলটা জুট মিলে চাষিরা সারা বছর পাট বিক্রি করতেন। বেগমগঞ্জের জমিগুলো অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধ থাকায় আউশ ও আমন ফসল হয় না। বর্তমানে পাট চাষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় পাট চাষও করা যাচ্ছে। পাটের দাম না থাকা, ভালো মানের বীজ না পাওয়ায় আমরা পাট চাষ করছি না। এছাড়া স্থানীয়ভাবে সরকারি কোনো দপ্তরও নেই। যেখানে গিয়ে আমরা পাট চাষ করার ব্যাপারে আলোচনা করতে পারব। চাষিরা উত্পাদিত পাট বিক্রির নিশ্চয়তা পেলে এবং উন্নত মানের বীজ পাওয়া গেলে ও প্রশিক্ষণ পাওয়া গেলে পুনরায় পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম ভূইয়া জানান, এক সময় উপজেলায় প্রচুর পাট চাষ হতো। চাষিরাও তাদের উত্পাদিত পাট বিক্রির নিশ্চয়তা পেত। পাট বিক্রির কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়ায় বর্তমানে চাষিরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। কোথাও কোথাও এখনো পাট চাষ হলেও সেগুলো পাটের জন্য নয়, শাক হিসেবে বিক্রি করার জন্য চাষ হয়। উত্পাদিত পাট বিক্রির নিশ্চয়তা তৈরি হলে এবং চাষিরা ভালো জাতের বীজ পেলে বেগমগঞ্জে আবার পাট চাষের প্রবণতা ফিরে আসবে।