স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী অনুপ ভট্টাচার্য স্মরণ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠযোদ্ধা প্রয়াত অনুপ ভট্টাচার্য স্মরণ অনুষ্ঠান হয়ে গেল গতকাল। প্রখ্যাত এই সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীর কাজের মূল্যায়ন করলেন তার সহযাত্রী ও শিল্পীরা। স্মৃতিচারণ করলেন অনেকে। গতকাল রাতে করোনাকালে ভার্চুয়ালি এই স্মরণসভার আয়োজন করে গানের দল নিবেদন। সংগঠটির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এই স্মরণানুষ্ঠান।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রখ্যাত গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছিল অনুপ ভট্টাচার্যের। সেই সব উজ্জ্বল স্মৃতিময় দিনের কথা মেলে ধরে গীতিকার রফিকউজ্জামান বলেন, ‘সুরকার পরিচয়ের কাছে হারিয়ে গেছে অনুপের কণ্ঠস্বর। অথচ তার কণ্ঠটি ছিল চমত্কার। সুরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য তার সেই চমত্কার কণ্ঠের মূল্যায়ন হয়নি। আমরা তাকে কণ্ঠশিল্পীর বদলে সুরকার বানিয়ে ফেললাম। এ জন্য আমরা বন্ধুরা এখনো নিজেদের আত্মধিক্কার দেই। কারণ, আমরা খুব ভালো একটি কণ্ঠকে হারিয়েছি। আধুনিক গানের পাশাপাশি লোকসংগীত পরিবেশনায়ও সে ছিল দারুণ পারঙ্গম। লালন সাঁই কিংবা রাধারণের গান তার কণ্ঠে অসাধারণভাবে উঠে আসত। কিন্তু তারুণ্য ও যৌবনে তার কণ্ঠকে কাজে না লাগানোয় অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। সে নিয়মিতভাবে সংগীতচর্চা করলে দেশের আধুনিক গান আরো সমৃদ্ধি হতো। অথচ সেটা না হওয়ায় আমরা তাকে সুরকার ও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে চিনেছি। যদিও পড়তি বয়সে সে তিনটি অ্যালবামও বের করেছিল। এ কারণেই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তার উত্কর্ষতার বিষয়টি অন্য শিল্পীরাও জানে এবং মানে। প্রচারবিমুখ এই মানুষটির জীবনে সংগীত ছিল সাধনা। ’
এ ছাড়াও অনুপ ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণসভায় অংশ নেন স্বাধীন বাংলা বেতারের শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম, সংগীতশিল্পী তপন মাহমুদ, রফিকুল আলম, নাট্যজন খায়রুল আলম সবুজ, ঝুনা চৌধুরী, আহমেদ গিয়াস, শিল্পী তানভীর আলম সজীব, সাংবাদিক কাজল ঘোষ, কাজল দেবনাথ এবং অনুপ ভট্টাচার্যের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।