স্পোর্টস রিপোর্টার
স্থগিত হওয়া এএফসি কাপের খেলা ৩০ জুন শুরু হবে বলে এএফসি ঘোষণা করেছে। পুনরায় ফিকশ্চারও ঘোষণা করা হয়েছে। খেলা কোথায় হবে সেটি জানায়নি। এএফসি বসুন্ধরা কিংসকে বলেছে তারা ভেন্যু নিতে আগ্রহী কি না। বসুন্ধরা এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। গতকাল সভায় বসার কথা ছিল, সেটি হয়নি, আজ হতে পারে। তবে ভেন্যু নিতে এই ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসানের আগ্রহ কম। কারণ তারা যা কিছু করতে চায় সেখানে যেন ইমেজ ক্ষুণ্ন না হয়। দেশের ইমেজ, দলের ইমেজ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বসুন্ধরা একটা ক্লিন ইমেজ সৃষ্টি করতে চায়। সাংগঠনিক দক্ষতায় কোথাও যেন ছিদ্র না থাকে।
এরই মধ্যে বসুন্ধরা কিংস সাংগঠনিক লড়াইয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। এএফসি কাপের ডি গ্রুপের খেলা নিয়ে এএফসি নিজেরাই ঝামেলায় ছিল। খেলা আয়োজন করতে পারেনি। সেই না পারাটাকে কাজে লাগিয়েছে বসুন্ধরা।
এএফসি কাপে খেলতে মালদ্বীপে যাওয়ার কথা ছিল। বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা বিমান ধরার পথে বের হওয়ার পরই জানতে পারে খেলা স্থগিত। মালদ্বীপে যাওয়া হচ্ছে না। বসুন্ধরা এএফসির কাছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের দাবি করে। তাদের যৌক্তিতা তুলে ধরে এএফসিকে লম্বা একটা চিঠি পাঠায়। বসুন্ধরার দাবি ছিল, গড়িমসির কারণে প্লেঅফ হতে আবাহনীকে বাদ দেওয়া। যদি তাই হয় তাহলে মালদ্বীপ গ্রুপ পর্বের খেলা আয়োজন করতে গড়িমসি করেছে। ব্যাঙ্গালুরু এএফসি কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভেঙেছে বলে তাদের দেশে ফেরত যেতে বলা হয়েছিল। গ্রুপের আরেক দল মোহনবাগান নানা সমস্যার কারণে মালদ্বীপে যেতে গড়িমসি করে। এ অবস্থায় এএফসির পক্ষে খেলা আয়োজন করাটাই অসম্ভব হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। অথচ বসুন্ধরা সব নিয়ম মেনে খেলার জন্য প্রস্তুতি ছিল। ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান বললেন, ‘অন্যান্য ক্লাব নিয়ে এত সমস্যা আর আমরা খেলার জন্য প্রস্তুত। তাহলে আমাদের দোষটা কোথায়। তাই আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবি করেছিলাম।’ এ দাবির পাঁচ দিনের মধ্যে এএফসি ডি গ্রুপের খেলা নতুন ঘোষণা করে, করতে বাধ্য হয়। বসুন্ধরা শক্ত হাতে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এএফসির কাছে দাবি তুলে ধরে। সেই দাবি গ্রহণযোগ্য মনে করলেও এএফসি সে পথে না গিয়ে খেলা আয়োজনের ঘোষণা দেয়। বসুন্ধরার সাংগঠনিক দক্ষতারই ফসল এটি। অথচ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশে এসে আফগানিস্তানের ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। এএফসি নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করে আফগানিস্তানের ওপর ছেড়ে ছিল। তারা যদি বাংলদেশে যেতে চায় যাবে, খেলা হবে। বাফুফে পারেনি আফগানিস্তানকে বাংলাদেশে আনতে। অথচ বসুন্ধরা ঠিকই তাদের কাজটা আদায় করে নিল।