করোনা মহামারি

দেশে সংক্রমণ আবার বাড়ছে এক দিনে ৩৭ জনের মৃত্যু

দেশে করোনা সংক্রমণ ফের ঊর্ধ্বমুখী। এক দিনের পরিসংখ্যানে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা দুই-ই বেড়েছে। দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে আরো ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১ হাজার ৬০৮ জনের মধ্যে। এর আগের দিন মঙ্গলবার ১ হাজার ২৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয় এবং ৩০ জনের মৃত্যু হয়। ঈদের ছুটির পর নমুনা পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে যে কোনো সময় দেশে কোভিড-১৯-এর পূর্ণ সংক্রমণ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালক (লাইন ডিরেক্টর এনসিডিসি) অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বুলেটিনে তিনি একথা জানান।

অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, ইতিমধ্যে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে চলে এসেছে। এমনকি চোখ রাঙাচ্ছে। সব সময় মাস্ক পরতে হবে; বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব। তিনি বলেন, ‘সরকারের চলমান লকডাউনে মানুষ এবং পরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে সংক্রমণ কমেছে। এতে আত্মতুষ্টির কোনো কারণ নেই।’ তিনি বলেন, ভারতের ভ্যারিয়েন্ট দেশে প্রতিনিয়ত শনাক্ত হচ্ছে। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের হার অনেক বেশি। আমাদের দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই আমরাও আমাদের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রেখেছি। অপরদিকে সাতক্ষীরায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারতফেরত ১৩৯ জন পাসপোর্টধারী যাত্রীর মধ্যে ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৭ জন হয়েছে। আর করোনা ভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ২৪৮ জন। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরো ১ হাজার ৯২৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৫২৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে; শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ২৪ জন পুরুষ আর নারী ১৩ জন। তাদের ২৬ জন সরকারি হাসপাতালে, ১০ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং এক জন বাড়িতে মারা যান।